দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ সম্প্রতি বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তিন দফার এই ভোটের জন্য ৩০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বিহারে পাঠানো হবে বলেই জানাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আগামী মাসে ভোটের বেশ কয়েক দিন আগেই তারা সেখানে পৌঁছে যাবে বলে জানানো হয়েছে। এই ৩০০ কোম্পানি অর্থাৎ ৩০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য বিহার পুলিশকে সাহায্য করবে বলেই জানিয়েছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, “এই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কোথায় কোথায় মোতায়েন করা হবে সেই বিষয়ে পরিকল্পনা করতে হবে রাজ্য সরকারকে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর চলাফেরা ও তাদের মোতায়েন করার কাজে সাহায্য করবে সিআরপিএফ।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, করোনা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব ব্যবস্থা করতে হবে রাজ্যকে।
বিহারে ৩৮টি জেলা রয়েছে। কেন্দ্রের মতে তার মধ্যে ৪০ শতাংশ জেলায় মাওবাদীদের প্রভাব রয়েছে। গয়া, ঔরঙ্গাবাদ, জামুই, জেহানাবাদ, লখিসরাই এদের মধ্যে অন্যতম। তাই এই জেলাগুলিতে ভোট পরিচালনায় সমস্যা হতে পারে বলেই সুরক্ষা বন্দোবস্তও জোরদার করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “যেহেতু কেন্দ্রীয় বাহিনীর চলাফেরা ও মোতায়েনের দিকে সিআরপিএফ নজর রাখবে, তাই তাদের বলা হয়েছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এলাকা ভাগ করে দিতে। সেখানে পৌঁছেই জনসাধারণের মনে সাহস যোগানোর কাজ করতে হবে তাদের।”
আরও এক আধিকারিক জানিয়েছে, অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় বাহিনী বিহারে পৌঁছে যাবে। ২৪৩টি কেন্দ্রে তাদের ভাগ করে দেওয়া হবে। আগামী দু’মাস উৎসবের মরসুম শুরু হচ্ছে। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মাওবাদী এলাকা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সব তথ্য দেবে বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগ।
জানা গিয়েছে, মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলির মধ্যে বেশিরভাগ এলাকাতেই প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ ২৮ অক্টোবর নির্বাচন। তাই সেই জায়গাগুলিতে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বিহারে যে ৩০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে তার মধ্যে ৮০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৫০ কোম্পানি সিআইএসএফ, ৩০ কোম্পানি আইটিবিপি, ৫৫ কোম্পানি বিএসএফ, ৭০ কোম্পানি এসএসবি ও ১৫ কোম্পানি আরপিএফ রয়েছে।
কেন্দ্রের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার প্রধান উদ্দেশ্য থাকে মানুষের মনে সাহস যোগানো। যেসব এলাকায় গুণ্ডাবাহিনী বা বিভিন্ন সমাজবিরোধীদের প্রভাব আছে সেখানে সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা করতে বাহিনী সাহায্য করে।”
এর আগে ২০১৫ সালে বিহারে ছ’দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল। সেই সময় ৭২৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছিল। অর্থাৎ গতবারের থেকে এবার অর্ধেকের থেকেও কম বাহিনী পাঠানো হচ্ছে।