দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছিল, ভিন্ রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিজেদের রাজ্যে ফেরাতে বিশেষ ট্রেন চালাবে রেলমন্ত্রক। তবে তাঁদের থেকে ট্রেনের ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় অবতীর্ণ হলেন একাধিক বিরোধী দলের নেতা।
সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব থেকে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি-- এক যোগে সমালোচনা করেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে অমানবিক বলে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব বলেন, "এর থেকেই বোঝা গেল কেন্দ্রীয় সরকার ঋণখেলাপিদের ছাড় দেয় আর পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বোঝা চাপায়।"
সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, "যে শ্রমিক দু'মাস বেতন পাননি তাঁর থেকে ভাড়া চাওয়ার মতো নির্মম আর কিছু হতে পারে না।" ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তথা ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা হেমন্ত সোরেন বলেন, "ন্যূনতম মানবিকতা বোধ থাকলে এমন সিদ্ধান্ত কোনও সরকার নিতে পারে না।"
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বুধবার জানিয়েছিল, লকডাউনের মধ্যে ভিন্ রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিক, ছাত্রছাত্রী এবং তীর্থযাত্রীদের নিজেদের রাজ্যে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে প্রথমে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকেই বলেছিল পরিবহণের ব্যবস্থা করতে। পাঞ্জাব, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্য দাবি জানায়, শ্রমিকদের ফেরাতে ট্রেনের বন্দোবস্ত করুক কেন্দ্রীয় সরকার। পরে সেই দাবি মেনে নেয় কেন্দ্র।
তবে রেলমন্ত্রকের নির্দেশিকায় বলা হয় যেখান থেকে শ্রমিকরা ট্রেনে উঠছেন সেখানকার প্রশাসন যেন তাঁদের থেকে টিকিটের ভাড়া সংগ্রহ করে রেলের হাতে দিয়ে দেয়। অর্থাৎ কেরল থেকে ওড়িশার উদ্দেশে ট্রেন ছাড়লে কেরল সরকারকে ভাড়া সংগ্রহ করে রেলের হাতে দিয়ে দিতে হবে।
যদিও রেল আরও একটি কথা বলেছে। তা হল, শ্রমিকদের বোঝো কমাতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি তাদের কোষাগার থেকে এই টাকা দিয়ে দিতে পারে। সরকারের অনেকের বক্তব্য, শুধুমাত্র দোষারোপ করলে তো হয় না। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যগুলিরও উচিত সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়টি দেখা।