
শেষ আপডেট: 2 November 2018 08:57
কেপলার তখন সক্রিয় ছিল[/caption]
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, কেপলার মহাকাশযানটির অবসর গ্রহণ হয়তো মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে। এমনিতেই কেপলার আগামী পঞ্চাশ বছর ধরে মহাবিশ্ব নিয়ে ভাবার খোরাক দিয়ে গেছে নাসাকে। নতুন প্রজন্মের মহাকাশযান এবং মহাকাশ বিজ্ঞান গবেষণার সরঞ্জাম দিয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার হদিশ দিয়ে গেছে কেপলার।
নাসা ইতিমধ্যেই কেপলারের জায়গায় নতুন মহাকাশযান TESS (Transiting Exoplanet Survey Satellite) উৎক্ষেপণ করেছে। যেটি পৃথিবীর কাছের গ্যালাক্সিগুলিতে গ্রহের সন্ধান করে চলেছে। নতুন প্রজন্মের অতিকায় টেলিস্কোপ তৈরির কাজ শেষের পথে। একই সঙ্গে মহাকাশ থেকে এবং পৃথিবী থেকে কেপলারের কাজ একইরকম নিখুঁতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।
[caption id="attachment_48116" align="aligncenter" width="702"]
কেপলার বিজ্ঞানকে যা দিয়ে গেল[/caption]
কেপলার মিশনের সায়েন্টিস্ট নাতালিয়া বাটালহা বলেছেন, "গ্রহের সন্ধান মানেই জীবনের সন্ধান। কেপলারের দেওয়া তথ্য ভবিষ্যতের মহাবিশ্বে জীবন খোঁজার মূল পাথেয় হবে । প্রচুর মতবাদ ও পরীক্ষা নিরীক্ষা আমাদের মহাবিশ্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টে দিয়েছে। এর জন্য প্রধান কৃতিত্ব কিন্তু কেপলার মহাকাশযানটির"। নক্ষত্রদের চারদিকে গ্রহরা ঘুরে বেড়ায়, এই কথা তিন দশক আগেও জ্যোতির্বিদরা জোর দিয়ে বলতে পারতেন না। আর নাসা এখন নিজে হ্যাশট্যাগ #moreplanetsthanstars দেয় সোশ্যাল মিডিয়া বা বিভিন্ন আর্টিকেলে। এর অর্থ মহাবিশ্বে নক্ষত্রর চেয়ে গ্রহর সংখ্যা বেশি অর্থাৎ প্রাণ থাকার সম্ভাবনা বেশি। আমাদের ছায়াপথেই নাকি লক্ষ লক্ষ এমন গ্রহ আছে, যেখানে প্রাণ থাকার সম্ভব বলে জানিয়ে গেছে কেপলার।
[caption id="attachment_48144" align="aligncenter" width="600"]
পৃথিবী ছাড়ল কেপলার[/caption]
কেপলার পৃথিবী ছেড়েছিল ২০০৯ সালে। তারপর মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথে একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে ৫৫৮০ টি গ্রহ থাকার সম্ভাবনার কথা জানায়। এই হিসেবে সমগ্র মিল্কিওয়ে ছায়াপথে ১০ বিলিয়ন গ্রহ আছে। এই গ্রহগুলির মধ্যে অনেক গ্রহেই প্রাণ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন নাসার বিজ্ঞানী নাতালিয়া বাটালহা। পৃথিবী থেকে ১১ আলোকবর্ষ দূরে এরকম একটি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার ভেতরে জল তরল অবস্থাতেই আছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আমাদের এই দূরত্বটা অনেক মনে হলেও বিজ্ঞানের কাছে এটা প্রতিবেশীর দরজার মতোই কাছে। এই আবিস্কারের কৃতিত্বও কেপলারের। জ্যোতির্বিজ্ঞানী সারা সিগার কেপলারের অবসর নিয়ে বলেছেন, "সত্যিই কেপলার দারুণ কাজ করে গেছে। অনেক ধরনের অদ্ভুত গ্রহর সন্ধান দিয়ে গেছে যাদের কথা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি"।
[caption id="attachment_48147" align="aligncenter" width="678"]
পাশাপাশি, পৃথিবী ও কেপলার[/caption]
২০১৩ সালে কেপলারের কেপলারে লাগানো টেলিস্কোপে ত্রুটি ধরা পরে। সেটি আর ঠিক করা যায়নি। প্রায় ১৬০০০০ নক্ষত্রের ওপর নজরদারির মিশন নিয়ে যাওয়া কেপলারের কর্মজীবনে ছেদ পড়ে। কেপলারের ইঞ্জিনিয়াররা কেপলারকে নতুনভাবে ৮০ দিনের জন্য মহাকাশে নজরদারি করার জন্য তৈরি করে দেন। এই ৮০ দিনে কেপলার প্রচুর নতুন গ্রহ খুঁজে বার করে এবং ৬১ টি সুপারনোভা বিস্ফোরণের ছবি তোলে। গত মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে নাসার কেপলার মিশনের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার চার্লস সোবেক জানান, "আমরা জানতাম কেপলারের দিন ফুরিয়ে আসছে সময়ের আগেই। কারণ তার জ্বালানি শেষ হয়ে আসছিল। কেপলার এখন থেকে পৃথিবীর ৯ কোটি ৪০ লক্ষ কিলোমিটার দূরে থাকবে"।
[caption id="attachment_48124" align="aligncenter" width="870"]
চিহ্নিত এলাকায় নজরদারি চালিয়েছে কেপলার[/caption]
হার্ভাড স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স-এর ডেভিড চর্বোণিউ জনিয়েছেন, কেপলারের অবদান বলে শেষ করা যাবেনা। নবীন প্রজন্মের বিজ্ঞানীরা কেপলারের হাত ধরেই মহাবিশ্বে প্রবেশ করবে।তিনি যখন ছোট ছিলেন অবাক হতেন শুনে এই মহাবিশ্বে পৃথিবীর মতো আরও অনেক গ্রহ আছে জেনে। কিন্তু আমার মেয়ে অবাক হয় না। এই জন্য তোমাকে ধন্যবাদ কেপলার"। এই মূহুর্তে সূর্যের কক্ষপথে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে চলেছে কেপলার। গায়ে জমছে মহাকাশের ধূলিকণা। বিজ্ঞানীদের চোখের কোণে কি জলকণা চিকচিক করছে। নিশ্চয়ই করছে। তাঁরাও তো মানুষ।