দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে গত কয়েক বছরে কত মানুষ যে নিজেদের পরিবার, প্রিয়জন, পরিচিতদের সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছেন, তার ঠিক নেই। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে হাজার অভিযোগ বা বিতর্ক থাকলেও, তার এই গুণটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এই সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরেই কেউ স্কুলবেলার বন্ধু ফিরে পেয়েছেন মধ্যবয়সে এসে, কেউ আবার নিজের পরিবারের খোঁজই পেয়ে গেছেন এই প্ল্যাটফর্মে।
তেমনই একটি ঘটনার কথা সামনে এল আবারও। অন্ধ্রপ্রদেশের কিশোরী ভবানী ১২ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মা-বাবাকে খুঁজে পেল এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই। আর এই গোটা কাণ্ডটা যিনি ঘটালেন, সেই বংশীধর কৃষ্ণর বাড়িতেই পরিচারিকা হিসেবে কাজ করত মেয়েটি।
পেশায় কনসালট্যান্ট বংশীধর জানিয়েছেন, তিনি তাঁর বাড়িতে এক পরিচারক রাখতে চেয়েছিলেন। তখনই ভবানী এসে যোগাযোগ করে তাঁর সঙ্গে। বংশীধর মেয়েটিকে কাজে নিয়োগ করার আগে তাঁর পরিচয়পত্র দেখতে চান। যে কোনও কাউকে কাজ দেওয়ার আগেই তিনি ডকুমেন্ট যাচাই করে নেন বলেই জানিয়েছেন বংশীধর। সে জন্যই ভবানীর কাছে নথি দেখতে চান তিনি। কিন্তু ভবানী জানায়, তার কাছে কিছুই নেই।
বংশীধরের কথায়, “ও আমায় বলে, ও হারিয়ে গেছিল খুব ছোটবেলায়। তার পরে অচেনা এক মহিলা ওকে মানুষ করেন। সব শুনে আমি ঠিক করি, ভবানীর মা-বাবার কোনও খোঁজ পাওয়া যায় কিনা চেষ্টা করব।”
ভবানীর কাছ থেকে নাম, ঠিকানা যেটুকু জানতে পারেন, তাই দিয়ে ফেসবুকে খুঁজতে শুরু করেন বংশীধর। যাঁদের সঙ্গে কিছু অংশ মিলে যায়, তাঁদের ফেসবুকেই মেসেজ পাঠান তিনি। মেসেজের উত্তর এলে, এক জনের সঙ্গে ভবানীর বলা কথার বেশ মিল পান তিনি। আরও কিছু তথ্য জোগাড় করার পরে সেগুলি আবার মিলিয়ে নেন ভবানীর সঙ্গে।
এর পরেই ভিডিও কল করার অনুরোধ করেন তাঁরা। এত দিন পরে হারানো মেয়ের সম্পর্কে খোঁজখবর শুনে তাঁরাও নড়েচড়ে বসেন। ভিডিও কল করে ভবানীকে দেখার পরেই সব ধন্ধ কেটে যায়। তাঁরা নিশ্চিত করেন, ভবানীই তাঁদের হারিয়ে যাওয়া মেয়ে। ভবানী যদিও তাঁদের চিনতে পারেনি তখন, কারণ অত ছোটবেলার কথা তার মনে নেই। কিন্তু সেও খুব খুশি হয় সব জানতে পারার পরে।
১২ বছর ধরে ভাগ্যের ফেরে ঘরছাড়া হয়ে ছিল সে। বড় হয়েছে অন্যের কাছে। এত দিন পরে, পরিচারিকার কাজ করতে এসে যে এমন ঘটনা তার সঙ্গে ঘটে যাবে, সে নিজের বাবা-মাকে ফিরে পাবে, তা যেন স্বপ্নের মতো একটা ব্যাপার হয়ে উঠেছে।
তবে এ খবর শুনে এক জন মানুষ একটু হলেও দুঃখ পেয়েছেন। তিনি ভবানীর পালিকা-মা। হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে যাঁর কাছে বেড়ে উঠেছে ভবানী। হঠাৎ করে এত কিছু ঘটে যাওয়ায় তাঁর মনটা বেশ খারাপ। তাঁকে ছেড়ে নিজের বাড়ি চলে যাবে ভবানী, এ যেন মেনে নিতে পারছেন না তিনি! তবু সব কিছুর পরে ভবানী ভাল থাকলেই তিনি খুশি।