দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশের স্টিকার লাগানো নীলবাতির গাড়িতে করে এক যুবকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে খোদ কলকাতায়। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দিয়ে জোড় করে ওই যুবককে গাড়িতে তোলে। তার পর রাতভর অত্যাচার করা হয় ওই যুবককে। গ্রেফতার করা হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। চেষ্টা করা হয় টাকা হাতানোর। তবে অবশেষে দুষ্কৃতীদের সব জারিজুরি ফাঁস হয়ে গিয়েছে। পুলিশের জালে পাকড়াও হয়েছে তিন অভিযুক্ত। গতকাল সকালে এই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, হেনস্থা হওয়া যুবকের নাম সোমনাথ সর্দার। তিনি সুকান্ত নগরের বাসিন্দা। রবিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে সুকান্ত নগরের নবজ্যোতি ক্লাবের কাছে একটি চায়ের দোকানে গিয়েছিলেন সোমনাথ। সেখানে আচমকাই হাজির হয় পুলিশের স্টিকার সাঁটা ওই গাড়ি। এসইউভি গাড়ি থেকে দু'জন নেমে সোমনাথ ও তাঁর বন্ধুদের ধাওয়া করেন। চার বন্ধু পালিয়ে গেলেও সোমনাথ ওই দুই যুবকের খপ্পরে পড়ে যান। তাঁকে জোর করে গাড়িতে তোলে ওই দু'জন। গাড়িতেই ছিল আর এক ব্যক্তি। তিনজনই নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দেয়।
সোমনাথের অভিযোগ, বিধাননগর দক্ষিণ থানার অন্তর্গত শান্তিনগর এলাকা থেকে গাড়িতে তোলা হয় ওই তাঁকে। প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় বিধাননগর দক্ষিণ থানার সামনে। সেখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে চড় মারা হয় যুবককে। হুমকি দেওয়া হয়। এর পর গাড়ি নিয়ে সেক্টর ফাইভের দিকে চলে যায় দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, গাড়িতে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধরও করা হয় সোমনাথকে। গ্রেফতার করার হুমকি দিয়ে তাঁর থেকে ৫ হাজার টাকা আদায়ের চেষ্টাও করা হয়।
রবিবার রাতভর সোমনাথকে অত্যাচারের পর ভোরের দিকে উইপ্রোর সামনে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করায় দুষ্কৃতীরা। সেই সময় চিংড়িঘাটার দিক থেকে একটি পুলিশের টহলদারি গাড়ি আসতে দেখে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন সোমনাথ। পুলিশের গাড়ি সোমনাথের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসায় কোনওমতে দুষ্কৃতীদের গাড়ি থেকে নেমে পড়েন সোমনাথ। এই ঘটনায় খানিক হতভম্ব হয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। গাড়ি থেকে তাড়াতাড়ি পুলিশের স্টিকার খুলতে শুরু করে তারা। তবে সোমনাথের থেকে ততক্ষণে সব শুনে তিন অভিযুক্তকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশ। ধৃতদের নাম সুমন চক্রবর্তী (২৭), অরূপ আচার্য (৩০) এবং সুকান্ত সাহা। ওই গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে লাঠি এবং মদের বোতল।
কেন এই তিনজন সোমনাথের সঙ্গে এমন আচরণ করেছে তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কারও পরামর্শে তারা এ কাজ করেছে কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে। এই তিনজনের সঙ্গে সোমনাথের কোনও শত্রুতা রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।