দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেইসঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে পুলিশ মহলেও। জানা গিয়েছে, কসবা থানার ৭ পুলিশকর্মী এবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার এই রিপোর্ট এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, সাত পুলিশকর্মীর লালারস পরীক্ষার জন্য নাইসেডে পাঠানো হয়েছিল। সেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এই সাত কর্মীর মধ্যে ১ জন সাব ইন্সপেক্টর, ৩ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর, ২ জন কনস্টেবল ও ১ জন সিভিক ভলান্টিয়ার রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আপাতত সবাইকেই আইসোলেশন সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে খবর।
রাজ্যে পুলিশ মহলে ক্রমেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শুধুমাত্র কলকাতা নয়, জেলার থানাগুলিতেও আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় দুই পুলিশকর্মীরও মৃত্যু হয়েছে। ৭ জুন কোভিড আক্রান্ত হয়েছে মৃত্যু হয়েছিল শেক্সপিয়র সরণি থানার এক কনস্টেবলের। ওই পুলিশ কর্মীর বয়সও বেশি ছিল না। মাত্র ৪৭ বছর। ডিসি সাউথের অফিসে পোস্টিং থাকলেও ওই পুলিশকর্মী শেক্সপিয়র সরণি থানায় কনস্টেবল ছিলেন। ১৩ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কলকাতা পুলিশের আরও এক কনস্টেবলের মৃত্যু হয়। ওই কনস্টেবলের নাম দিলীপ সরদার। বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৫ বছর। তিনি শিয়ালদহ ট্রাফিক গার্ডে পোস্টেড ছিলেন।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে হাওড়াতেও। এ পর্যন্ত হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের বহু পুলিশকর্মী করোনায় আক্রান্ত হলেও মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম। মৃত গৌতম পট্টনায়ক (৪৭) চ্যাটার্জিহাট থানার সাব ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। ৭ জুলাই সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান তিনি।
তবে এর মধ্যে ইতিবাচক ঘটনাও ঘটছে। গত ১৩ জুন কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি থাকা ৪০ জন পুলিশ একসঙ্গে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাঁদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।
এভাবে পুলিশ মহলে একের পর এক আক্রান্তের খবর পাওয়ায় উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। নবান্নে বৈঠকে অনেকবার তিনি বলেছেন, পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষিত থাকতে হবে। নইলে অন্যদের সুরক্ষিত রাখা যাবে না। প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা যাতে সবসময় মাস্ক ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বজায় রাখেন, সেই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে রাজ্যে ক্রমাগত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের সব রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১১৯৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। ফলে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭,১০৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৮৮০ জনের। তবে সুস্থতার হারও যথেষ্ট ভাল। এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৭,৩৪৮ জন।