বিদ্যাসাগরের সময়ের সিন্দুক উদ্ধার সংস্কৃত কলেজে, ভেঙে কী পাওয়া গেল
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শতাব্দী প্রাচীন এক লোহার সিন্দুক উদ্ধার হল সংস্কৃত কলেজে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় সেই সিন্দুক ভেঙে তার ভিতর থেকে পাওয়া গেল বহু মূল্যবান নথি। এই ঘটনায় অবাক হয়েছেন কলেজের অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা।
শুক্রবার সকালে সংস্কৃত কলেজের গ
শেষ আপডেট: 29 November 2019 14:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শতাব্দী প্রাচীন এক লোহার সিন্দুক উদ্ধার হল সংস্কৃত কলেজে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় সেই সিন্দুক ভেঙে তার ভিতর থেকে পাওয়া গেল বহু মূল্যবান নথি। এই ঘটনায় অবাক হয়েছেন কলেজের অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা।
শুক্রবার সকালে সংস্কৃত কলেজের গোডাউন থেকে পাওয়া যায় একটি লোহার সিন্দুক। সঙ্গে সঙ্গে সেই সিন্দুক নিয়ে আসা হয় কলেজের টিচার্স রুমে। সিন্দুক খোলার জন্য ডেকে আনা হয় এক কারিগরকে। তিনি প্রথমে চাবি বানিয়ে সেই সিন্দুক খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু চারটি চাবি বানিয়েও তা খোলা যায়নি। তারপর সিদ্ধান্ত হয় সিন্দুকের স্ক্রু খুলে ভাঙতে হবে সেই সিন্দুক।
সেইমতো ছেনি-হাতুড়ি নিয়ে কাজ শুরু করেন সেই কারিগর। দীর্ঘ চার ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে খোলা হয় সেই সিন্দুক। তার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে স্বাধীনতার আগের সময়ের অনেক চেকবই, রুপোর মেডেল ও পদক। সেইসঙ্গে সাতটি খামও উদ্ধার হয় সিন্দুক থেকে।

কলেজের অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা সেইসব নথি দেখে জানান, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সময়ের অনেক নথি উদ্ধার হয়েছে। পাওয়া গিয়েছে রেজিস্টার। সেখানে শিক্ষকদের নামের সঙ্গে স্বয়ং বিদ্যাসাগরেরও নাম লেখা রয়েছে। এছাড়াও 'মুক্তকেশী দেবী উইডো ফান্ড' নামের একটি তহবিলের কাগজ পাওয়া গিয়েছে সেখানে। এই কাগজ দেখে বোঝা যাচ্ছে সেইসময় বিধবাদের আট টাকা করে ভাতা দেওয়া হত। এমনকি যাঁরা ভাতা পেতেন তাঁদের আঙুলের ছাপও পাওয়া গিয়েছে সেখানে।
সংস্কৃত কলেজের তরফে জানানো হয়েছে, কী কী উদ্ধার হয়েছে তা খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট আকারে তা জানানো হবে। তবে এইসব নথির ঐতিহাসিক ও সামাজিক মূল্য অনেক। কারণ স্বাধীনতার আগের ও পরের অনেক নথি যা এতদিন লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল তা পাওয়া গিয়েছে। এইসব নথি থেকে সেই সময়ের সমাজব্যবস্থার অনেক দিক সামনে আসবে বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।