দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘুষ নিয়ে খুনের মামলাকে দুর্ঘটনা বলে চালাচ্ছে পুলিশ, এমনই অভিযোগ তুললেন ট্যাংরার গোবিন্দ খটিক লেনের বাসিন্দারা। যদি ঘুষ নিয়েই তদন্ত হবে তাহলে তাঁরাও ঘুষ দিতে তৈরি, এমনটাই দাবি সেখানকার বাসিন্দাদের। আর তাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাতে টাকা নিয়ে পথ অবরোধ শুরু করেছেন বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার রাতে পুত্রবধূর অপহরণ ঠেকাতে গিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কায় মৃত্যু হয় গোপাল প্রামাণিকের। অভিযুক্ত অ্যাম্বুল্যান্স চালক ও আর একজনকে গ্রেফতার করলেও তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে ট্যাংরার পরিস্থিতি।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ঘুষ নিয়ে অপহরণ ও খুনের ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে চালাতে চাইছে পুলিশ। টাকা নিয়ে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তেমন হলে তাঁরাও ঘুষ দিতে প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গোবিন্দ খটিক লেনের বাসিন্দারা হাতে টাকা নিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন। রাস্তায় জলের ড্রাম ফেলে দেওয়া হয়। এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ট্যাংরা থানাতে গিয়ে পুলিশকে টাকা দেওয়ার চেষ্টাও করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বাদানুবাদও হয়। গোবিন্দ খটিক লেনে অবরোধ তুলতে গেলেও পুলিশকে দেখে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের হুমকি, যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণের চেষ্টা ও খুনের মামলা দায়ের না হয়, তাহলে অবরোধ চলবে।
মঙ্গলবার রাতে এক তরুণী তাঁর শ্বশুর, শাশুড়ি এবং মামাশ্বশুরকে নিয়ে বিয়েবাড়ি থেকে ফিরছিলেন। পাশের ক্রিস্টোফার রোডেই ছিল নিমন্ত্রণ। যেহেতু দূরত্ব বেশি নয়, তাই রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ হেঁটেই ফিরছিলেন তাঁরা। সামনে শাশুড়ি-বউমা, একটু পিছনে শ্বশুর ও মামাশ্বশুর।
অভিযোগ, বাড়ির কাছাকাছি জায়গাতেই একটি অ্যাম্বুল্যান্স পুত্রবধূর পাশে এসে গতি কমিয়ে দেয়। সামনের সিটে বসা একজন হাত ধরে টানাটানি করে গাড়িতে তুলতে যায় তাঁকে। এরপরেই চিৎকার করে ওঠেন ওই তরুণী। ছুটে আসেন শ্বশুর। প্রথমে চালককে থামানোর চেষ্টা করেন তিনি। না থামলে এগিয়ে গিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। কিন্তু তাঁকে পিষে দিয়েই চলে যায় ওই অ্যাম্বুল্যান্সটি। মৃত্যু হয় শ্বশুর গোপাল প্রামাণিকের।
এরপরে অভিযোগ দায়ের হয় ট্যাংরা থানায়। আবদুর রহমান ও তাজউদ্দিন নামের দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান মুরলীধর শর্মা বলেন, ঘটনাস্থল ও তার আশেপাশের অন্তত আটটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হয়েছে। তরুণী অ্যাম্বুল্যান্সের ধারেকাছেও ছিলেন না। তিনি মিথ্যে অভিযোগ করছেন। তারপরেই পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।