দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যানেসথেসিয়ার ভুলে কোমায় চলে গিয়েছেন রোগী। এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পেলে তা এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।
জানা গিয়েছে, রানিগঞ্জের বাসিন্দা বছর ৩৯-এর সোমিয়া মজুমদারের গত ২৪ ডিসেম্বর জরায়ুতে টিউমার অপারেশন হয় ওই হাসপাতালে। রোগীর এক বান্ধবীর কথায়, "অপারেশনের পর চিকিৎসকরা জানান সোমিয়া ভালো আছে। তবে তখন আমাদের ওর সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বলা হয়েছিল, একঘণ্টা পর আইটিইউতে শিফট করা হবে সোমিয়াকে। তখন দেখা করবেন।"
পরিবারের অভিযোগ, এই কথাবার্তার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা আচমকাই জানান, সোমিয়ার একবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে গিয়েছে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকরা সেই সময় বলেন অ্যানেসথেসিয়ার জন্য সোমিয়ার ব্রেনে ৪ থেকে ৫ মিনিট অক্সিজেন পৌঁছয়নি। মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতির জন্য কোমায় চলে গিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ভেন্টিলেশনেও দেওয়া হয়েছে রোগীকে। সোমিয়ার বান্ধবী এও জানিয়েছেন যে, একটি ইইজি রিপোর্টেও দেখা গিয়েছে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াতেই কোমায় চলে গিয়েছেন রোগী।

সোমিয়ার পরিবারের কথায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর অপারেশন থিয়েটারে কিছুক্ষণের জন্য একাই ছিলেন সোমিয়া। সেসময় দায়িত্বরত নার্সদের ডিউটির শিফট চেঞ্জ হচ্ছিল। ফলে সোমিয়ার ব্রেনে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা কারও নজরে পড়েনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ এনেছে সোমিয়ার পরিবার। হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করেছে রোগীর পরিবার।
ওই অভিযোগপত্রে রোগীর পরিবারের তরফে বলা হয়েছে, যে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সোমিয়া, তিনিই অস্ত্রোপচার করেন। অ্যানেসথেসিস্ট হিসেবে ছিলেন অন্য এক চিকিৎসক। পরিবারের তরফে অভিযোগপত্রে এও বলা হয়েছে যে, অপারেশনের আগেই জানা গিয়েছিল বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে সোমিয়ার। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কথায়, "সব পরিস্থিতি জানার পর আমরা আশা করেছিলাম আপনারা রোগীর ঠিকমত দেখভাল করবেন, সঠিক চিকিৎসা করবেন, কিন্তু এক্ষেত্রে যে অপারেশনের পর আপনাদের তরফেই একটা বড়সড় গাফিলতি হয়েছে সেটা স্পষ্ট।"
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রোগীর পরিবারের আবেদন যে, গোটা বিষয়টা যেন খতিয়ে দেখা হয়। এবং তদন্তের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যেন উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।