শেষ আপডেট: 22 March 2020 05:12
এদিন সকাল থেকেই দেখা গেল রাস্তাঘাট প্রায় শুনশান। কিছু ট্যাক্সি ও বাস ছাড়া যানবাহনের দেখা নেই বললেই চলে। অবশ্য কিছু প্রাইভেট গাড়ি রাস্তায় চলছে। তাও হাতে গোনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মুদির দোকান, সব্জি বাজার থেকে শুরু করে মাছ-মাংসের দোকান সব বন্ধ। কেবলমাত্র কিছু ওষুধের দোকান খোলা রয়েছে।
রাস্তায় যে অল্পসংখ্যক বাস চলছে, তাতেও যাত্রী নেই বললেই চলে। একই ছবি ট্রেনেরও। মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন তো বন্ধই। লোকাল ট্রেনেও লোক নেই। মেট্রোর ক্ষেত্রেও ছবিটা একই। শহরের সব বড় বড় বাজার খাঁ খাঁ করছে। ক্রেতা-বেক্রেতা কেউ নেই। উত্তর কলকাতা থেকে দক্ষিণ কলকাতা ও শহরতলি জুড়ে ছবিটা একই। এমনকি যে শিয়ালদহ স্টেশনে রাত-দিন সবসময় ভিড় থাকে, সেখানেও রবিবার সকাল থেকে লোক অনেক কম। স্টেশনের বাইরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডও প্রায় ফাঁকা।
রবিবার এমনিতেই ছুটির দিন হওয়ায় অফিসে যাওয়ার ভিড়টা থাকে না। কিন্তু ছুটির দিনে পরিবারের সঙ্গে সিনেমা হল, শপিং মল কিংবা রেস্তোরাঁতে যাওয়ার ভিড় থাকে। করোনা আতঙ্কে আপাতত সিনেমা হল, মাল্টিপ্লেক্স, জিম, অডিটোরিয়াম, রেস্তোরাঁ সব বন্ধ। একাধিক শপিং মলও বন্ধ থাকার কথা আজ। ফলে আম জনতা এদিন ঘরে থাকার কথা মনস্থ করেছে। সেই ছবিই দেখা যাচ্ছে শহর জুড়ে।
পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪। তার মধ্যে দু’জন কলকাতার, একজন হাবরা ও একজন দমদমের বাসিন্দা। কলকাতার দুই তরুণ ও হাবরার ছাত্রী বিদেশ থেকে আসার পরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়লে দমদমের ব্যক্তি সাম্প্রতিক সময়ে কোথাও বেড়াতে যাননি। তাই তাঁর শরীরে এই ভাইরাসের জীবাণু পাওয়া যাওয়ায় কিছুটা চিন্তিত প্রশাসন। হিসেব মতো দমদমের ব্যক্তিই রাজ্যে থাকা প্রথম করোনা আক্রান্ত। এই পরিস্থিতিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকারও। মোদীর মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আর্জি জানিয়েছেন, দরকার ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরতে। তারই প্রথম ধাপ হিসেবে রবিবারের জনতা কার্ফু কিন্তু ভালই সাড়া ফেলল শহরে।