দ্য ওয়াল ব্যুরো: একাধিকবার নোটিস পাঠালেও হাজিরা দেননি তিনি। তাঁকে পেতে সাউথ সিটির আবাসনে হানা দিয়েছিল এনফোর্স ডিরেক্টরেটের বাঘা বাঘা আধিকারিকরা। সেখানেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। রোজভ্যালি দুর্নীতি মামলায় গত নভেম্বরে লুক আউট নোটিস জারি করে ইডি। অবশেষে শুক্রবার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দিলেন রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ডুর স্ত্রী শুভ্রা কুণ্ডু।
জানা গিয়েছে শুভ্রাকে প্রায় তিনঘণ্টা জেরা করেন গোয়েন্দারা। আবার তাঁকে ডাকা হতে পারে বলে খবর। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বেশ কিছু তথ্য ইডি দফতরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শুভ্রাকে।
গত বছর জুন মাসে ইডি আধিকারিকরা বারাসত থেকে বেহালা পর্যন্ত রোজভ্যালির গয়নার বিপণির ১৬টি শোরুমে হানা দিয়েছিল। ইডি সূত্রে খবর, গয়নার বিপণি সংক্রান্ত যে হিসেব পাওয়া গিয়েছে তাতে অন্তত দেড়শ কোটি টাকার বেশি গরমিল রয়েছে। আর এই গয়না বিপণি দেখভাল করতেন শুভ্রা। তাই তাঁকে ডেকে জেরা করতে চেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। শুধু গয়নার বিপণি নয়, বাগুইআটিতে রোজভ্যালির যে টেলিভিশন চ্যানেলের অফিস ছিল, সেখানেও শুভ্রা ছিলেন অন্যতম মাথা। চ্যানেলের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট দেখতেন তিনি। সে ব্যাপারেও তার থেকে তথ্য জানতে চায় ইডি। মন্দারমণির রোজভ্যালি রিসর্টও ছিল শুভ্রার নামে।
কয়েক মাস আগে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত থেকে শুরু করে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ডেকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সেই সময়েই ডাকা হয়েছিল শুভ্রা কুণ্ডুকে। দু’বার নোটিস পাঠালেও হাজিরা দেননি শুভ্রা। ২০১৭ সালে শুভ্রার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে এক ইডি অফিসারের বিরুদ্ধে। মনোজ কুমার নামের ওই আধিকারিককে দেখা যায় শুভ্রার সঙ্গে দিল্লির একটি হোটেলে ঢোকেন। তখন কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন রাজীব কুমার। সেই সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে তোড়জোর শুরু করে লালবাজারে। তড়িঘড়ি মনোজ কুমারকে সরিয়ে দিয়েছিল ইডি।
২০১৪ সালে একবার শুভ্রাকে ডেকে পাঠিয়ে জেরা করেছিল ইডি। সেবার বোরখা পরে সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন তিনি। তবে এদিন সাধারণ পোশাকেই ইডি অফিসে গিয়েছিলেন শুভ্রা।