
শেষ আপডেট: 23 January 2019 10:57
রানির মা হেনা মল্লিক জানিয়েছেন, তিনি কাজে গিয়েছিলেন। মেয়েকে কুকুর কামড়েছে শুনেই ছুটে আসেন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতাল চত্বরে প্রচুর কুকুর। একে কামড়াচ্ছে, তাকে কামড়াচ্ছে। এখন কুকুর দেখলেই ভয় করছে।
তবে এই ঘটনা নতুন নয়। গত বুধবার ৫০ বছরের প্রভাস মৌলেকে এনআরএস চত্বরে একটি কুকুরে কামড়ায়। এমনভাবে কামড়ায় যে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এখনও তিনি ভর্তি আছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ছোট বাচ্চার পায়ের মাংস খুবলে তুলে নিয়েছিল কুকুর। যখন এই ঘটনা ঘটে, তখন হাসপাতাল চত্বরে কুকুর খুনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন পশুপ্রেমীরা।
এ দিনের ঘটনার পর অভিযোগ জানান এনআরএস-এ থাকা অন্যান্য রোগীর আত্মীয়রাও। সবার অভিযোগ, নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের ভিতরটা যেন কুকুরের উন্মুক্ত বাগান। গুণে শেষ করা যাবে না, এত কুকুর রয়েছে হাসপাতাল চত্বরে। মাঝেমধ্যেই তাদের হাতে আক্রান্ত হতে হয় মানুষকে। কখনও খাবারের জন্য বা কখনও এমনই মানুষকে কামড়াচ্ছে এই কুকুরের দল। অনেক বলার পরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।
দিন দশেক আগে হাসপাতাল চত্বরে আবর্জনার স্তুপের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় ১৬টি কুকুরছানার মৃতদেহ। পাশে আধমরা অবস্থায় পড়ে ছিল মা কুকুর। সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু পশুপ্রেমী সংগঠন এসে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে। পরের দিনই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। সেখানে দেখা যায়, দুজন নার্স লাঠি দিয়ে কুকুরছানাগুলিকে পেটাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিবাদ রাস্তায় নামে।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ও নার্সিং হস্টেলে জেরা করে সোমা বর্মন ও মৌসুমী মণ্ডল নামে দুই নার্সকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন অন্য নার্সরা। তাঁদের অভিযোগ কুকুরের উৎপাতে হাসপাতাল ও হস্টেল চত্বরে থাকা দায় হয়ে উঠেছে। অনেকবার বলার পরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিক্ষোভের মুখে পড়ে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের তরফে জানানো হয়, প্রত্যেকটি হাসপাতালে কুকুরদের নির্বীজকরণ করা হবে।
এ দিনের ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সরকারি হাসপাতাল গুলির অবস্থা।