দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া এবার দেখা গেল রিজেন্ট পার্ক এলাকায়। সেখানে দিদির দেহ আগলে রেখেছিলেন ভাই পার্থ। আর এখানে মায়ের মৃতদেগ আগলে বসে থাকল ছেলে। পচা দুর্গন্ধ বের হওয়ায় প্রতিবেশীরা খবর দেন পুলিশে। তারা গিয়ে উদ্ধার করে দেহ।
ঘটনাটি ঘটেছে বাঁশদ্রোণীর রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকার বিদ্যাসাগর পার্কে। সেখানেই ছেলের সঙ্গে বাস করতেন ঝর্ণা গাঁতাইত নামের এক বৃদ্ধা। পাড়ার বাকিদের সঙ্গে খুব একটা কথাবার্তা তাঁদের ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। ঝর্ণা গাঁতাইতের বয়স ৭৮ বছর। তাঁর স্বামী নিমাই গাঁতাইতের কয়েক বছর আগেই মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের বাড়ি থেকে পচা গন্ধ পান প্রতিবেশী বেলা দে নামের এক মহিলা। অনেক ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া পাননি তিনি। তারপরেই তিনি রিজেন্ট পার্ক থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে অনেকক্ষণ ডাকার পরে দরজা খোলেন ঝর্ণাদেবীর ছেলে। গন্ধের উৎস জিজ্ঞাসা করলে তিনি কিছু বলতে চাননি বলেই জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরে গিয়ে দেখেন বাথরুমে একটি পচা-গলা মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। মৃতদেহটি ঝর্ণাদেবীর বলেই জানান তাঁর ছেলে। তারপর দেহটিকে সেখান থেকে তুলে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত করা হবে। তাহলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ জানিয়েছে, কারও সঙ্গেই খুব একটা ভাল সম্পর্ক ছিল না ঝর্ণা গাঁতাইত ও তাঁর ছেলের। পুলিশকে যুবক কিছু বলতেও চাইছেন না। প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হচ্ছে কয়েক দিন আগেই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই সবটা বোঝা যাবে। যুবকের কোনও মানসিক সমস্যা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় কারও তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। যদিও এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ। এর পিছনে অন্য কোনও ঘটনা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। এভাবে বাড়ির বাথরুম থেকে পচাগলা দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।