দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ করোনা আক্রান্ত হওয়ায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল এক ব্যক্তিকে। কিন্তু হঠাৎ দেখা গেল তিনি ওয়ার্ডে নেই। চারদিকে খোঁজ খোঁজ রব পড়ল। অবশেষে ১৯ ঘণ্টা পরে দেখা মিলল সেই ব্যক্তির। না হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাননি তিনি। হাসপাতাল চত্বরেই ঘোরাঘুরি করছিলেন। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
জানা গিয়েছে, মুচিপাড়ার বাসিন্দা বাসুদেব দে করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নাগাদ দেখা যায়, ওয়ার্ডে নেই বাসুদেববাবু। প্রথমে মনে করা হয়েছিল হয়তো শৌচাগারে রয়েছেন তিনি। কিন্তু সেখানেও পাওয়া যায়নি তাঁকে।
একথা জানাজানি হওয়ার পরেই শুরু হয় খোঁজ। সব কর্মীরা খুঁজতে শুরু করেন বাসুদেববাবুকে। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি তাঁকে। বৃহস্পতিবার পেরিয়ে শুক্রবার এসে গেলেও তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। চিন্তায় পড়ে যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের আশেপাশের এলাকাতেও খোঁজ করা হয়। কিন্তু কোথাও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
অবশেষে শুক্রবার দুপুরে দেখা যায়, হাসপাতালের ভিতরেই একটি গাছতলায় বসে রয়েছেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে কর্মীরা তাঁকে পাকড়াও করেন। তারপরে নির্বিকারে বাসুদেববাবু জানান, একটু হাওয়া খেতে বেড়িয়েছিলেন তিনি।
এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে হাসপাতাল চত্বরে। বাইরে কোথায় কোথায় তিনি ঘুরেছেন তাই নিয়েই আতঙ্ক বেশি দেখা দিয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ। হাসপাতালের ভিতরে ওই রোগী কোথায় কোথায় ঘুরেছেন, বা হাসপাতালের বাইরে তিনি বেরিয়েছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগেও অবশ্য রাজ্যের অনেক হাসপাতালেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। অনেক জায়গায় তো নমুনা পরীক্ষার জন্য সব ব্যবস্থা হয়ে যাওয়ার পরেও রোগী পালিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে রোগীকে পালিয়ে যেতে। এভাবে ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে বেড়ানোর ঘটনা খুব একটা বেশি দেখা যায়নি।
প্রশ্ন উঠছে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও। এভাবে একজন আক্রান্ত আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে ১৯ ঘণ্টা হাসপাতাল চত্বরেই ঘুরে বেড়ালেন, অথচ কেউ তাঁকে দেখতে পেলেন না, সেটা কীভাবে সম্ভব। আর সেখানে আইসোলেশন ওয়ার্ডের বাইরে নিরাপত্তারক্ষী থাকেন সেখানে তো এই ধরনের ঘটনা আরও ঘটা উচিত না। হাসপাতালের সুপার জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।