দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতের কলকাতায় মদ্যপদের হাতে খুন হতে হল এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে। ইঁট মেরে থেঁতলে দেওয়া হয়েছে মাথা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বাকিদের খোঁজ করছে পুলিশ।
ঘটনাট ঘটেছে ময়দান থানা এলাকায় বিস্যাসাগর সেতুর নীচে হেস্টিংস মাজারের কাছে। জানা গিয়েছে, নিহত সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম মহম্মদ সানি। তাঁর বয়স ৩০ বছর। ময়দান থানার সিভিক ভলান্টিয়ার ছিলেন তিনি। সানির বাড়ি খিদিরপুরে। সিভিক ভলান্টিয়ারের পাশাপাশি ঘোড়ার ব্যবসা ছিল তাঁর। শনিবার ডিউটি না থাকলেও নাকি ঘোড়াকে খাবার দিতে যাচ্ছেন বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার নাকি হেস্টিংস মাজারের কাছে কয়েকজন বসে মদ্যপান করছিল। তাদের মধ্যে হঠাৎ করেই বচসা শুরু হয়। কর্তব্যরত না হলেও সেই বচসা নাকি থামাতে যান সানি। সেই সময় ওই মদ্যপ যুবকরা তাঁকে মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ। তাঁর মাথায় নাকি ইঁট দিয়ে আঘাত করা হয়। এছাড়া বিদ্যাসাগর সেতুর লোহার পাটাতনেও ঠুকে দেওয়া হয় তাঁর মাথা।
জানা গিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থায় সানি লুটিয়ে পড়লে ওই যুবকরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় কয়েকজনকে সানিকে সেখানে পড়ে থাকতে দেখে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যান এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে ডাক্তাররা জানান, মাথার আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু হয়েছে সানির।
এই ঘটনার পরেই তদন্ত শুরু করে ময়দান থানার পুলিশ। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় হেস্টিংস মাজারের পাশে নাকি প্রায়ই মদের আসর বসায় কয়েকজন যুবক। তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ওই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকিদের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধুই মদের ঝোঁকে বচসার জেরে খুন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় ফের একবার প্রশ্নচিহ্নের সামনে রাতের কলকাতার নিরাপত্তা।