দ্য ওয়াল ব্যুরো: সত্যিকারের বামপন্থীদের রাজ্য কেরল। সেই কারণেই সেখানে এখনও মোদী-ঝড় ওঠেনি। 'মোদী-ফায়েড' হওয়ার কোনও প্রয়োজনও অনুভব করেননি কেরলবাসী। একটি অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন বলিউড সুপারস্টার জন অ্যাব্রাহাম।
মাদ্রাজ ক্যাফে হোক বা পরমাণু, সত্যমেব জয়তে হোক বা বাটলা হউস-- দেশাত্মবোধক সিনেমার মুখ হিসেবে রুপোলি পর্দায় বারবারই আত্মপ্রকাশ করেছেন জন অ্যাব্রাহাম। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত দেশপ্রেম যে কোনও নির্দিষ্ট দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের উপরে নির্মিত নয়, তা এ দিনই প্রথম জানা গেল জনের নিজের মুখ থেকে। মুম্বইয়ে একটি অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে এসে এই প্রথম নিজের রাজনৈতিক মতামত ব্যক্ত করলেন। জানালেন, কেরল কেন এখনও ‘মোদী–ফায়েড’ হয়নি।
আরও পড়ুন:
ভাষা নিয়ে শ্রীঅমিত শাহকে খোলা চিঠি
জন অ্যাব্রাহামের কথায়, "এটাই কেরলের সৌন্দর্য। এখানে আপনি দেখতে পাবেন, ১০ মিটারের মধ্যে মন্দির, মসজিদ, গির্জা-- সবই রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে রয়েছে। ধর্মবিশ্বাস নিয়ে কারও সঙ্গে কারও কোনও ঝামেলা নেই। সারা দেশে যখন ধর্মীয় মেরুকরণ চলছে, ধর্মকে ভিত্তি করে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, তখন কেরলে সমস্ত ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করছেন। সেক্যুলারিজ়ম এখানে পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত।"
আদতে কেরলেরই বাসিন্দা জনের যে নিজের জন্মভূমি রাজ্যের উপর পক্ষপাত থাকবেই, তা কিছু আশ্চর্যের নয়। কিন্তু এই পক্ষপাতের কারণ হিসেবে যে তাঁর এই রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে, তা এত দিন চর্চার বিষয় ছিল না কোনও মহলেই। কিন্তু কেরলবাসীর উদারতার কথা বলতে গিয়ে জনঅ্যাব্রাহাম মনে করিয়ে দিলেন, বামপন্থী ও মার্ক্সবাদী চিন্তার কারণেই এখনও কেরলে ধর্মের নামে কোনও বড় ঝামেলা বা খুনোখুনির ঘটনা ঘটে না।
২০১৯ সালের সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে কেরলে মোদীর একটিও আসম না পাওয়ার কারণ হিসেবেও এই যুক্তিই দিয়েছেন অভিনেতা। জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে তাঁর বাবার হাত ধরেই তিনি মার্ক্স পড়তে শুরু করেন। বামপন্থাকে আত্মস্থ করেন।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জন অ্যাব্রাহাম বলেন, "যখন ফিদেল কাস্ত্রো মারা গেলেন, আমি কেরল গিয়েছিলাম। দেখেছিলাম, সারা রাজ্যে তাঁর ছবি, হোর্ডিং টানিয়ে শোক জ্ঞাপন করা হয়েছিল। অন্য কোনও রাজ্যে এ রকম হয়েছে বলে শুনিনি। কারণ কেরলের মানুষ সত্যিই কমিউনিস্ট। কমিউনিজ়মকে শ্রদ্ধা করেন তাঁরা। আমিও তাই। আমি সাম্যবাদে বিশ্বাস করি। অর্থের সমবণ্টনে বিশ্বাস করি। কেরল এই সাম্যবাদেরই দৃষ্টান্ত।"