
শেষ আপডেট: 27 August 2020 01:30
ইনসা জানের ভূমিকা ঠিক কী ছিল তা পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে সাড়ে ১৩ হাজার পৃষ্ঠার চার্জশিটে বিস্তারিত জানিয়েছে এনআইএ। ওই ঘটনায় প্রধান চক্রী মহম্মদ উমর ফারুকের সঙ্গে হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট বা ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যে কথোপকথন ও যোগাযোগ হতো তাও হাতে এসেছে এনআইএ-র। ওমর অবশ্য কিছুদিন আগে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মারা গিয়েছে। এনআইএ-র তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, ইনসা জানের বাবা তারিক পির, ওমরের সঙ্গে মেয়ের যোগাযোগের কথা জানতেন।
তদন্তে জানা গিয়েছে, পুলওয়ামায় উমর ফারুক ও আরও দুই জঙ্গির যাতায়াত ও ঘোরাফেরার সবরকম বন্দোবস্ত করে দিয়েছিল তারিক পিরই। বাপ-বেটি মিলেই অন্তত ১৫ বার উমর ফারুক, সমীর দার ও আদিম আহমেদ দারের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের বন্দোবস্ত করেছিল। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় তাদের আশ্রয়েই থেকেছিল উমর-সমীররা। প্রতিবার অন্তত তিন চারদিন করে তারিক-ইনসার বাড়িতে রাত কাটিয়েছিল সন্ত্রাসবাদীরা।
উনিশের লোকসভা ভোটের আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়ের উপর আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল সন্ত্রাসবাদীরা। ওই হামলার ঘটনায় ৪০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। এনআইএ তদন্তের পর জানিয়েছে, আদিল আহমেদ দার ছিল আত্মঘাতী জঙ্গি। সেই বিস্ফোরক ভর্তি জিপ নিয়ে কনভয়ের মধ্যে ঢুকে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল।
এনআইএ তাদের চার্জশিটে জানিয়েছে ২০১৮ সালের ১৪ এপ্রিল কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করেছিল উমর ফারুক। তার সঙ্গে এসেছিল আরও চারজন জঙ্গি। পুলওয়ামা হামলার এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, সীমান্তে তৎপর দুই অপারেটরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জেরা করে জানা গিয়েছে যে উমর ফারুক ও আরও চার জঙ্গিকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকতে সাহায্য করেছিল এই দু'জন।
ওই আধিকারিকই জানিয়েছেন যে, প্রথমে দক্ষিণ কাশ্মীরে ছোটখাটো জঙ্গি হামলার যুক্ত ছিল উমর ফারুক। কিন্তু ২০১৮ সালের একটি এনকাউন্টারে মারা যায় ফারুকের নিজের ভাই ইব্রাহিম হায়দার। এরপর পাকিস্তান থেকে উমর ফারুকের কাছে নির্দেশ আসে বড় ধামাকা করার।
উপর মহলের নির্দেশ আসার পরই সক্রিয় হয়ে যায় ফারুক। সেই সঙ্গে ইনসা জানের বাড়িতে যাতায়াত বেড়ে যায়। এমনকি পুলওয়ামা হামলার দায় স্বীকার করে জইশ-ই-মহম্মদের তরফে যে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল সেটাও তোলা হয়েছিল ইনসা জানের বাড়িতেই। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল ফিঁঁদায়ে জঙ্গি আদিল দারকে। সেই ভিডিওতে ব্যাকগ্রাউন্ডে ভয়েস ওভার দিয়েছিল সমীর দার। তবে আদিল প্রাথমিক ভাবে আত্মবিশ্বাসী না থাকায় সমীরের কথার সঙ্গে তার ঠোঁটের ধরন অর্থাৎ লিপসিং মিলছিল না। আর তাই বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর সফল ভাবে ভিডিও বানিয়ে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল ফারুক। হামলার পর প্রকাশ করা হয় এই ভিডিও।