দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝড় বইছে গোটা দেশে। ক্রীড়া থেকে অভিনয়, সংবাদমাধ্যম থেকে রাজনীতি, #মি_টু ঝড়ে কার্যত থরহরিকম্প সব মহলেই। এরমধ্যেই মুখ খুললেন #মি-টু বাণে বিদ্ধ বর্ষীয়ান সাংবাদিক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এম জে আকবর।
কয়েকদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতি তোলপাড় আকবরের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে। কিন্তু তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। কারণ তিনি দেশেই ছিলেন না। ছিলেন নাইজিরিয়ায়। রবিবার সকালেই দেশে ফেরেন তিনি। দিল্লি বিমানবন্দরের লাউঞ্জ দিয়ে বেরোতেই তাঁকে ছেঁকে ধরে সংবাদ মাধ্যম। কিছু বলুন! সকালবেলাই আকবর জানিয়েছিলেন, "বলব। তবে পরে।" দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুখ খুললেন তিনি। উড়িয়ে দিলেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ। বললেন, 'সব মিথ্যে।'
#মি_টু এখন ট্রেন্ডিং। নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তর অভিযোগের পরই একের পর এক নাম আসতে শুরু করে। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার থেকে বলিউডের সংস্কারী বাবা অলোক নাথ, বাদ যাননি কেউ। এ ব্যাপারে আকবর বলেন, "প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করা সমাজের একটা অংশের মধ্যে ভাইরাল ফিভারের আকার নিয়েছে।"
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল বিজেপি-কেও। মনে করা হচ্ছিল দেশে ফিরেই না নয়াদিল্লির সাত নম্বর রেস কোর্স রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দেন তিনি। কিন্তু এ সবের যে কোনও সম্ভাবনাই নেই তা-ও এ দিন জানিয়ে দিয়েছেন এম জে আকবর। সেই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, অভিযোগকারিণীর বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আকবর অভিযোগ করেন, "যে বা যাঁরা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন তাঁরা আমার সামাজিক সম্মান খোয়ানোর চেষ্টা করছেন।" আকবর বলেন, "মিথ্যের কোনও পা নেই। কিন্তু মুখে মুখে এই বিষ ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো।" একই সঙ্গে আকবরের প্রশ্ন, "আর ক'মাস পরেই লোকসভার ভোট। কেন এই সময়েই এই ঝড় উঠল? এর কি কোনও রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা আছে?"
কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি #মি_টু প্রসঙ্গে বলেছিলেন, "এ বিষয়ে যাঁরা মুখ খুলছেন, তাঁদের কোনও ভাবে অবিশ্বাস করা বা ব্যঙ্গ করা ঠিক নয়।” এম জে আকবরের প্রসঙ্গে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি তো ঘটনাস্থলগুলোয় ছিলাম না, তাই বলতে পারব না কিছু। এ বিষয়ে উনিই সব চেয়ে ভাল উত্তর দিতে পারবেন।” অবশেষে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ খুললেন আকবর।