দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলিউডের গায়িকা কণিকা কাপুর। লখনউয়ের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবচেয়ে ভালোভাবে চিকিৎসা করা হচ্ছে কণিকার। দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় সমস্ত সুযোগ-সুবিধা। তাই বিটাউনের গায়িকারও উচিত যাবতীয় বায়না এবং বাছবিচার ছেড়ে একজন ভালো রোগী হিসেবে হাসপাতালে সঙ্গে সহযোগিতা করা।
লখনউয়ের সঞ্জয় গান্ধী পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের ডিরেক্টর আর কে ধীমান নিজের বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কণিকা কাপুরকে বেস্ট ট্রিটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে তরফে। তাই বায়নাক্কা বাদ দিয়ে কণিকারও উচিত তারকাসুলভ আচরণ না করে একজন ভালো রোগীর মতো সবার সঙ্গে সহযোগিতা করা। নিজের ভালোর জন্যই কণিকার এমনটা করা উচিত বলেই জানিয়েছেন ওই ডিরেক্টর।
হাসপাতালে রান্নাঘর থেকে কণিকার ডায়েট মেনে আসছে খাবার। তাঁর আইসোলেশন ওয়ার্ডে রয়েছে টেলিভিশন সেট। এমনকি আলাদা করে এয়ার হ্যানগিং ইউনিট লাগিয়ে নিয়মিত ভাবে এয়ার কন্ডিশন করা হচ্ছে কণিকার রুম। কিন্তু এত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরেও ক্রমাগতই নিজের ‘স্টার’ খেতাবের পরিচয় দিচ্ছেন কণিকা। বাকি সাধারণ রোগীদের মতো চিকিৎসকদের সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা করা উচিত বলেই মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে কণিকারই ভালো হবে বলেও মত তাদের।
বলিউডের প্রথম সেলিব্রিটি হিসেবে কণিকাই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত ৯ মার্চ লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে কোনও উপসর্গ দেখা দেয়নি তাঁর। বিমানবন্দরের থার্মাল স্ক্রিনিংয়েই কিছু ধরা পড়েনি। তবে দিন চার-পাঁচ পর বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ডাক্তার দেখান কণিকা। পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর দেখা যায় রিপোর্ট এসেছে পজিটিভ। অভিযোগ, দেশে ফেরার পরই নাকি কণিকাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছিল। তবে সেসব না করে বাড়িতে পার্টি রেখেছিলেন তিনি। সেখানে হাজির ছিলেন লখনউয়ের নামিদামি ব্যক্তিত্বরা। প্রভাবশালী আমলাদের পাশাপাশি কণিকার পার্টিতে হাজির ছিলেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া এবং তাঁর ছেলে দুষ্মন্ত সিং। প্রায় ৪০০ লোক এসেছিলেন ওই পার্টিতে।
যদিও কণিকার দাবি তিনি সেলফ আইসোলেশনে ছিলেন। বিশেষ কারও সঙ্গে দেখা করেননি। এদিকে গায়িকার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে এফআইআর। অন্যদিকে বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া এবং তাঁর ছেলের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। কণিকার আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর নিজেদের সেলফ আইসোলেশনে রেখেছিলেন মা ও ছেলে। তবে দুষ্মন্ত সিংয়ের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত আতঙ্ক ছিল সংসদেও। কারণ কণিকার পার্টির পরের দিনই সংসদে হাজির ছিলেন দুষ্মন্ত সিং।