দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুইল চেয়ারে বসে রয়েছেন হৃতিক রোশন। পরনে হাসপাতালে নির্দিষ্ট অ্যাপ্রন। দেখে বোঝা যাচ্ছে অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে হৃতিককে। তবে পর্দায় নয়, এমনটা ঘটেছে বাস্তবে।
ছেলেকে হুইল চেয়ারে বসে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকতে দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন হৃতিকের মা পিঙ্কি। আর পাঁচজনের মতোই অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠেছিল তাঁরও। ছেলেটার সঙ্গে সব ভাল হবে তো, এই চিন্তাতেই সাময়িক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন পিঙ্কি রোশন। তবে মায়ের মনোবল ফিরিয়েছিলেন ছেলেই। স্ট্রেচারে উঠেও হৃতিকের মুখে ছিল আত্মবিশ্বাসের হাসি। যেন মাকে বলছেন, "চিন্তা কোরো না, সব ঠিক থাকবে।"
https://www.instagram.com/p/B7G-TWSJ3WE/
আজ হৃতিকের ৪৬তম জন্মদিন। আর এবারের জন্মদিনে ছেলেকে একটু অন্যরকম ভাবেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মা পিঙ্কি। অপারেশন থিয়েটার যাওয়ার আগে হৃতিকের মধ্যে যে মনোবল তিনি দেখেছিলেন দুনিয়াকে জানিয়েছেন সেটাই। তিনি লিখেছেন, "আমি গর্বিত যে আমি ডুগ্গুর মা।" অপারেশন থিয়েটারের বেডে শোয়া হৃতিকের বেশ কয়েকটা ছবি শেয়ার করেছেন পিঙ্কি। আর লিখেছেন, "এ ছেলেকে দেখে বোঝা দায় যে এত বড় অপারেশন হতে চলেছে। সব ছবিতেই ওর হাবভাব দেখুন, যেন ইতিমধ্যেই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে ও। এই তো এতটুকু ছিল ডুগ্গু। ওকে জন্ম দিয়েছি, হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছি, ছোটবেলায় ভয় পেলে সাহস জুগিয়েছি। আজ সেই ছেলেই বড় হয়ে আমায় সাহস দিচ্ছে। ভালোবাসা আর বিশ্বাস দিয়ে বোঝাচ্ছে যে ওর কিচ্ছু হবে না।"

পিঙ্কি লিখেছেন, "হৃতিককে যেভাবে এতদিন কেউ দেখেননি ওর জন্মদিনে তেমন ছবিই সামনে আনলাম। মস্তিষ্কে অপারেশন হতে যাচ্ছিল আমার ছেলের। ওকে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকতে দেখে আচমকাই শরীর খারাপ লাগছিল আমার। তবে ডুগ্গুই আমার সাহস ফিরিয়েছে। ওর মধ্যে যে এত শক্তি আছে আগে জানতাম না। ডাক্তারদের হাতে ওকে ছাড়ার আগে মনে হয়েছিল একজন সদ্যোজাতর মতোই অসহায় ও। ডুগ্গুর চোখ দুটো দেখে প্রথম যেদিন ওকে কোলে নিয়েছিলাম সেই মুহূর্তটা মনে পড়ে গিয়েছিল। সেদিনের চোখের সারল্য আর এদিনের মধ্যে কোনও ফারাক নেই।"
https://www.instagram.com/p/B7G-md-pMV_/
মস্তিষ্কে বেশ জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে হৃতিক রোশনের। ভয় পেয়েছিলেন সকলেই। সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ছিলেন অভিনেতার মা। তবে এমন পরিস্থিতিতেও ভীষণরকম শান্ত ছিলেন হৃতিক। চাউনিতে ছিল না কোনও ভয়। পিঙ্কি লিখেছেন, "ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আতঙ্কের লেশমাত্র দেখতে পাইনি। বরং অদ্ভুতরকমের শান্ত ছিল ও। ওর চোখে বরং নিজের ভয়ের প্রতিফলন দেখতে পেয়েছিলাম। তবে সেটা কাটিয়ে দিয়েছিল ওর চাউনি আর সারল্যের হাসিই। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। সঙ্গে ধন্যবাদ আমার ছেলের মধ্যে থাকা শক্তিকেও। এই শক্তির জেরেই আজ অবধি কোনও চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পায়নি ডুগ্গু। হেরে গেলেও আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। এবং জিতেওছে। সেদিন আমার চোখে ভয় দেখে ছেলেই আমায় আশ্বাস দিয়েছিল। চোখ টিপে মুচকি হেসে বলেছিল সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি যেন চিন্তা না করি। জটিল অপারেশনের আগেও ছেলের এমন মনোবল দেখে মুগ্ধ আমি। মা হিসেবে এটা যে কত বড় পাওনা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।"
তবে এই একটাই নয়, আরও একটি আবেগঘন পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন হৃতিকের মা পিঙ্কি। লিখেছেন, "প্রিয় ডুগ্গু এই পৃথিবীর অন্যতম ভাল মানুষ তুমি। যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে ভয় পায় না। হাজার বাধা পেরিয়ে উঠে দাঁড়ায়। বিশ্বে এমন কোনও ফিলিশিং লাইন নেই যেটা পার করে তুমি থেকে যাবে। কারণ একটা চ্যালেঞ্জ পার করলে আর একটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে চাও তুমি। নতুন মাইলস্টোন তৈরি করতে চাও।" পিঙ্কি আরও বলেন, "অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা তুমি। আমার কাছে তো অবশ্যই। কঠিন পরিস্থিতিতেও মনোবল ধরে রাখার যে শিক্ষা তুমি আমায় দিয়েছ তার জন্য ধন্যবাদ। অনেক আশীর্বাদ রইল তোমার জন্য। আশা করি জীবনে অনেক দূর এগিয়ে যাবে তুমি। আরও অনেকের অনুপ্রেরণা হবে। শুভ জন্মদিন।"