দ্য ওয়াল ব্যুরো: যেদিকে চোখ যাচ্ছে শুধু সাদা আর সাদা। পুরু বরফের চাদরে ঢেকে গিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। কিন্তু ও কী? তার মাঝেই হেঁটে আসছেন জনাকয়েক লোক। না শুধু হেঁটে আসছেন না। কী যেন একটা টেনে নিয়ে আসছেন। রাস্তা জমে গিয়েছে বরফে। বোঝাই যাচ্ছে জিনিসটা টানতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু হাল ছাড়তে নারাজ ওই লোকগুলো। পা ডুবে গিয়েছে বরফে। তবুও মরিয়া হয়ে ওই জিনিসটা টেনে টেনেই কোনওরকমে এগিয়ে চলেছেন সামনের দিকে।
খানিকটা এগিয়ে আসতেই নজরে এল স্লেজ গাড়ি টেনে নিয়ে আসছেন জনাকয়েক লোক। আর ওই স্লেজ গাড়িতে শুয়ে কাতরাচ্ছেন এক ব্যক্তি। যাঁরা গাড়ি টানছেন তাঁদের দম প্রায় শেষ। কিন্তু উপায় নেই। ওই ব্যক্তিকে নিয়ে সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছতেই হবে। নইলে হয়তো অজান্তেই ঘটে যাবে কোনও বড় বিপদ। তাই একটুও সময় নষ্ট না করে সামনের দিয়ে এগিয়ে চলেছে ওই দল।
গত কয়েকদিনের প্রবল তুষারপাতে হিমাচল প্রদেশের অবস্থা এখন এইরকমই। রাস্তাঘাট ঢেকে গিয়েছে বরফে। বন্ধ সমস্ত পরিষেবাও। এমনকী রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও মিলছে না অ্যাম্বুলেন্স বা কোনও গাড়ি। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে পৌঁছতে পারছে না হেলিকপ্টারও। মঙ্গলবার অবস্থা ছিল আরও খারাপ। স্পিতি ভ্যালির পাংমো গ্রামের একজন হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তীব্র ঠাণ্ডায়। আর দেরি করেননি গ্রামবাসীরা। রোগীকে স্লেজ গাড়িতে চাপিয়েই রওনা দিয়েছিলেন কাজার উদ্দেশে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার পুরু বরফের উপর দিয়ে স্লেজ গাড়ি টেনে প্রতিবেশীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন তাঁরা।
স্পিতির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতিবছরই এখানে তুষারপাত হয়। কিন্তু কোনওদিনই রাস্তাঘাটের হাল এত খারাপ হয় না। এ ভাবে স্তব্ধ হয়ে যায় না যানবাহন। কিন্তু এই বছর অবস্থা একটু বেশিই খারাপ। প্রায় সব জায়গাতেই নজরে পড়ছে হাঁটু ডুবে যাওয়া বরফ। সেই সঙ্গে চলছে হাড়কাঁপানো কনকনে হাওয়া। কিন্তু এত খারাপ পরিস্থিতিতেও হার মানেননি পাংমো গ্রামের বাসিন্দারা। অসুস্থ প্রতিবেশীকে সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া ছিল তাঁদের কর্তব্য। আর সেই জন্যেই সব কিছুকে উপেক্ষা করেই স্লেজ গাড়ি টেনে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন স্পিতির এই গ্রামবাসীরা।