দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইবোনের সঙ্গে জন্মাষ্টমীর পুজো দেখতে মন্দিরে গিয়েছিল ক্লাস টেনের পড়ুয়া। কিন্তু সেখানে গিয়েই হলো বিপত্তি। জুটল চোরের বদনাম। সেই সঙ্গে বেধড়ক মার। গণপিটুনির জেরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালের আইসিইউ-তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ১৬ বছরের ওই কিশোর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাচ্চাটির অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাটি দিল্লির বুরারি এলাকার। সেখানকার কৃষ্ণ মন্দিরের মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে জন্মাষ্টমীর পুজো দেখতে গিয়েছিল ওই কিশোর। সে সময়ে মন্দিরের পাশে একটি গাড়িতে বসে মদ খাচ্ছিলেন দুই যুবক। আহত কিশোরের এক তুতো বোনকে দেখে ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপ করতে শুরু করে তারা। উড়ে আসতে থাকে কটূক্তি। এমনকি মেয়েটিকে গাড়িতে ওঠার জন্য জোর করতে শুরু করে ওই দুই যুবক। কোনওমতে সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচে মেয়েটি। ঠিক তখনই ওই কিশোরকে ধরে ফেলে দুই যুবক। আচমকাই তার হাত ধরে 'চোর চোর' বলে চিৎকার জুড়ে দেয়।
এরপরেই শুরু হয় বেদম মার। আশপাশ থেকেও কয়েকজন এসে যোগ দেন গণপিটুনিতে। কিল-চড়-লাথি-ঘুষি থেকে শুরু করে লাঠির আঘাত, বাদ যায়নি কিছুই। যন্ত্রণায় আতঙ্কে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে ছেলেটি। কিন্তু চারপাশের সকলে যেন কানে শুনতেই পাচ্ছিলেন না কিশোরের আর্তনাদ। তাকে বাঁচানর চেষ্টা করার বদলে মোবাইলে গোটা ঘটনার ভিডিয়ো তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন অনেকেই। এর মধ্যেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। আহত ছেলেটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁরা। খবর দেওয়া হয় কিশোরের পরিবারকেও।
গোটা ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই নৃশংসতা দেখে শিউরে উঠেছেন দুঁদে পুলিশ আধিকারিকরাও। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের ইতিমধ্যেই সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে তারা এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। খুনের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই রুজু হয়েছে মামলাও।