দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইএমডি জানিয়েছে আগামী ২৯ এবং ৩০ জুলাই দিল্লিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যার জেরে ব্যাহত হতে পারে বিদ্যুৎ পরিষেবা। রাস্তাঘাটে জল জমে তীব্র যানজট তৈরি হতে পারে। সে জন্য আগেই সতর্ক করা হয়েছে পুরসভাকে। আইএমডি-র প্রধান কুলদীপ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, মৌসুমী অক্ষরেখা উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই এই মৌসুমী অক্ষরেখা দক্ষিণমুখে অগ্রসর হবে। মঙ্গলবার সন্ধে থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায় উপর থাকবে এই মৌসুমী অক্ষরেখা। আর তার জেরেই আগামী দু'দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, আজ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব ভারতের একাধিক জেলায়। উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, অরুণাচলপ্রদেশ, অসম, মেঘালয়, হিমাচল প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ওড়িশা, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরায় আজ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ভারতেরও বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কেরল এবং কর্নাটকের উপকূলীয় অংশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১২ ঘণ্টায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানার দক্ষিণ ভাগে। গত কয়েকদিন ধরে পঞ্জাব এবং হরিয়ানায় উষ্ণ-আর্দ্র আবহাওয়া বজায় রয়েছে।
অন্যদিকে বিহারের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। জলমগ্ন হয়েছে মোট ১১টি জেলা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২৫ লক্ষ। এখনও পর্যন্ত বন্যায় বিহারে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। পাটনার আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে আগামী ১ অগস্ট পর্যন্ত বিহারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিহারের বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্বারভাঙা জেলা। শুধু বাড়িঘর নয়, থানা এমনকি ত্রাণ শিবিরও ভেসে গিয়েছে জলের তোড়ে। জানা গিয়েছে দ্বারভাঙা জেলার ১৪টি ব্লকে প্রায় ৯ লক্ষ লোক জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছেন। বিহারের উত্তর ভাগে গোপালগঞ্জ থেকে কাটিহার পর্যন্ত এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিহারের অন্যান্য বন্যা কবলিত জেলাগুলি হল সীতামারী, সেওহার, সুপাল, কৃষ্ণগঞ্জ, মুজফফরপুর, পূর্ব ও পশ্চিম চম্পারণ, খাগারিয়া এবং সরন। নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে গঙ্গায় জলের মাত্রা বেড়েছে। কোশি, ঘর্ঘরা, গণ্ডক, বুড়িগঙ্গা-সহ গঙ্গার একাধিক উপনদী এবং শাখানদীও বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। বন্যার হলে বিহারের অসংখ্য রাস্তাঘাট ধুয়ে এবং ভেঙে গিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় দুর্গতদের উদ্ধারের জন্য এনডিআরএফ-এর ১৭টি এবং রাজ্যে ৮টি দল কাজ করছে।