দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ২০ টাকা নিয়ে বচসা। আর তার জেরে ছেলের সামনেই পিটিয়ে মারা হল বাবাকে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে রাজধানী শহর দিল্লিতে। জানা গিয়েছে, বাবাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল ১৩ বছরের কিশোর। কাকুতি-মিনতি করেছিল আততায়ীদের কাছে। কিন্তু তাদের হাতেপায়ে ধরাতেও লাভ হয়নি। বেধড়ক মারের হাত থেকে নিস্তার পাননি ওই কিশোরের বাবা।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। উত্তর দিল্লির বুরারি এলাকার বাসিন্দা বছর ৩৮-এর রূপেশ গিয়েছিলেন স্থানীয় সেলুনে চুল-দাড়ি কাটতে। চুল-দাড়ি কামানোর পর দোকানের মালিক সন্তোষ ৫০ টাকা চায় রূপেশের কাছে। সঙ্গে পুরো টাকা না থাকায় সন্তোষকে ৩০ টাকা দেন রূপেশ। বলেন পরে বাকি ২০ টাকা মিটিয়ে দেবেন। আর এই সামান্য ঘটনা থেকেই সন্তোষ এবং তার ভাই সরোজের সঙ্গে ঝগড়া শুরু হয় রূপেশের।
নিমেষে কথা কাটাকাটি পৌঁছে যায় হাতাহাতিতে। রূপেশকে মাটিতে ফেলে নির্মম ভাবে মারতে থাকে দুই ভাই। কিল-চড়-লাথি-ঘুষির পর দোকানে থাকা প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে রূপেশকে বেধড়ক মারধর করে সন্তোষ ও তার ভাই সরোজ। ততক্ষণে মারধরের চোটে যন্ত্রণায় কাতরাতে শুরু করেছেন রূপেশ। সঙ্গে থাকা তার ১৩ বছরের ছেলেও দুই সেলুনওয়ালাকে বারবার বলতে থাকে তারা যেন বাবাকে না মারে। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। বেধড়ক মারের চোটে সংজ্ঞা হারান রূপেশ। তাঁকে উদ্ধার করে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
সবচেয়ে অদ্ভুত গোটা ঘটনায় সেলুনের আশেপাশে ভিড় জমে গেলেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি কেউ। বরং কয়েকজন ব্যস্ত হয়ে পড়েন ঘটনার ভিডিও তুলতে। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার ফলেই ব্যাপারটা নজরে আসে পুলিশের। মূল দুই অভিযুক্ত সন্তোষ এবং সরোজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুনের মামলা রুজু হয়েছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে।