দ্য ওয়াল ব্যুরো: আছড়ে পড়ছে অতি শক্তিশালী এবং সক্রিয় ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ। আইএমডি জানিয়েছে, ৩ জুন বুধবার দুপুর ১২টা ৩০মিনিট থেকে ২টো ৩০মিনিটের মধ্যে উপকূল দিয়ে বয়ে গিয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়। হাওয়ার গতিবেগ ছিল ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে।
https://twitter.com/Indiametdept/status/1268115632467271680?s=19
আপাতত এই ঘূর্ণিঝড় অবস্থান করছে মহারাষ্ট্রের উপকূলে আলিবাগের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে ১৮.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৭৩.২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মাঝখানে। মুম্বইয়ের কোলাবা থেকে ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং পুণে থেকে ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে রয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়। হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমডি।
https://twitter.com/Indiametdept/status/1268124218677321730?s=19
ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ আলিবাগের কাছে ল্যান্ডফলের পরেই তাণ্ডব দেখতে শুরু হয়েছে মুম্বই, রায়গড়-সহ মহারাষ্ট্রের উপকূলের একাধিক জেলায়। তুমুল বৃষ্টির সঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে এর মধ্যেই অসংখ্য গাছ পড়েছে মুম্বইতে। তৎপরতার সঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এনডিআরএফের বিশেষ টিম। আজ সন্ধে সাতটা পর্যন্ত মুম্বইয়ে বন্ধ রয়েছে বিমান পরিষেবা। ঝড়বৃষ্টির দাপটে বন্ধ হয়েছে অন্যান্য যান চলাচলও।
বেশ কিছু জায়গায় ব্যাহত হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। মুম্বইগামী অসংখ্য বিমান ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুম্বইয়ের বেশ কিছু জায়গায় জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। উত্তাল সমুদ্রের অতিরিক্ত উঁচু ঢেউয়ের কারণে মহারাষ্ট্রের উপকূলীয় জেলা রায়গড়ে ইতিমধ্যেই ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের প্রভাবে ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট বেশি।
২০২০ সালে ভারতে এই নিয়ে দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ছে। এর আগে সুপারসাইক্লোন উমফান আছড়ে পড়েছিল পূর্ব ভারতের দুই রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশায়। দুটি ঝড়ের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ১৫ দিনের। আর মুম্বইতে তো প্রায় দেড় শতক পর এমন ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ছে। ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মুম্বইয়ের অবস্থা ভয়ানক নিত্যদিন বাড়ছে কোভিড আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা। সেই সঙ্গে এখন বাণিজ্য নগরীর নতুন সমস্যা অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ।