
শেষ আপডেট: 21 October 2018 14:20
অলোক ভার্মা, সিবিআই ডিরেক্টর [/caption]
রাকেশ আস্থানা গুজরাট ক্যাডারের আইপিএস। নরেন্দ্র মোদী আমেদাবাদের কুর্সি থেকে দিল্লির মসনদে যেতেই তাঁকে সিবিআই-এর অস্থায়ী ডিরেক্টর করে দেন। এরপর অলোক ভার্মা সিবিআই-এর ডিরেক্টর পদে যোগ দেওয়ার পরও আস্থানাকে না সরিয়ে রেখে দেওয়া হয় স্পেশাল ডিরেক্টর করে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সির ভিতর আস্থানা বনাম ভার্মার লড়াই সর্বজন বিদিত। দেশের শীর্ষ ব্যুরোক্রেসির খোঁজখবর রাখা অনেকেই বলেন যে, সিবিআই-এর ভিতর এখন গ্যাং ওয়ার চলছে। একদিকের মাথায় অলোক ভার্মা। অন্য দিকে রাকেশ আস্থানা।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেও আস্থানা ছুটেছিলেন সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশনের দরজায়। সিভিসি-তে নালিশ ঠুকে জানিয়েছিলেন, তাঁর কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। পাল্টা সিবিআই-এর তরফে সিভিসি-কে জানিয়ে দেওয়া হয়, আস্থানার কথায় আমল না দিতে। কারণ ওঁর বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক অভিযোগ।
[caption id="attachment_44257" align="aligncenter" width="861"]
সিবিআই-এর সদর দফতর [/caption]
এই চাপান উতোরের মাঝেই গত মঙ্গলবার সরকারি ভাবে রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে এফআইআর হয়ে গিয়েছে বলে সিবিআই সূত্রে খবর। ২০১৭ সালে মঈন কুরেশি দুর্নীতি মামলায় বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে সিবিআই। তার মাথাতেই ছিলেন আস্থানা। অভিযোগ, আস্থানা সহ আরও বেশ কয়েকজন আমলা নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ীকে তদন্তের আওতায় রাখার আশ্বাস দিয়ে কয়েক ধাপে বেশ কয়েক কোটি টাকা ঘুষ নেন।
আস্থানার বিরুদ্ধে সিবিআই-এর দায়ের করা এফআইআর নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব উল্লসিত বলেই খবর। বাইরে প্রকাশ না করলেও শাসক দলের অনেক নেতাই ঘনিষ্ঠ মহলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, তৃণমূলের অনেক নেতাই আস্থানা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। একাধিক বিতর্কসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, “যে তদন্তকারী সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকই দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের করা তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায়?” তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই অভিযোগ করেছিলেন কেন্দ্রের মোদী সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে সিবিআই-ইডি’র মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে লেলিয়ে দিচ্ছে। একাধিক সমাবেশ মঞ্চ থেকে নেত্রীর সোচ্চার ঘোষণা ছিল, “সিবিআই, ইডি-র জুজু দেখিয়ে তৃণমূলকে কিচ্ছু করতে পারবে না।” ফলে আস্থানার বিরুদ্ধে এফআইআর-এ স্বভাবতই খুশি শাসক দল।
[caption id="attachment_44259" align="aligncenter" width="580"]
সিজিও কমপ্লেক্স [/caption]
তবে পর্যবেক্ষক মহল এখন তাকিয়ে রয়েছে পুজোর পরের এই সময়টায় কী হয় তার দিকে। এমনিতেই পুজোর আগে থেকে গা ঝাড়া দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। শাসক দলের নেতারা অভিযোগের সুরে বলেছেন যত ভোট আসবে, তত এইসব বাড়বে। কুণাল ঘোষ, আসিফ খানদের ইতিমধ্যেই জেরা করে ফেলেছে সিবিআই। নোটিস গেছে পুলিশ কর্তাদের কাছেও। তার মধ্যে পল্লবকান্তি ঘোষ দেখা করে গেলেও সিজিও কমপ্লেক্সে আসেননি মালদহের পুলিশ সুপার তথা তৎকালীন বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা প্রধান অর্ণব ঘোষ। সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা করা হয় গত ৫ অক্টোবর। যে কারণে সুদীপবাবু কোর কমিটির সভাতেই যেতে পারেননি। আস্থানা কাণ্ডের পর সারদা, রোজভ্যালি, প্রয়াগের তদন্তে গতি আসে নাকি এখন সেদিকেই তাকিয়ে শাসক-বিরোধী সব পক্ষ।