দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের হাথরাসের ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়েছে সারা দেশে। বছর কুড়ির দলিত তরুণীকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে যোগী রাজ্যে। গত মঙ্গলবার জীবন যুদ্ধ থেমেছে নির্যাতিতার। দিল্লির সফদারজং হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। হাথরাসের ঘটনার বীভৎসতায় শিউরে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। ক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে দেশের প্রতিটি কোণায়।
এই ঘটনার রেশ কাটার আগেই ফের এক গণধর্ষণের খবর পাওয়া গিয়েছে বিহারে। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার বিহারের গয়া জেলায় আত্মহত্যা করেছে এক দলিত কিশোরী। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই, চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা। মেয়ের সঙ্গে হওয়া সব অন্যায়ের বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সবের আগেই আত্মহত্যা করেছে ওই কিশোরী। পরিবারের অভিযোগ লাঞ্চনা-অপমান এসব সহ্য করতে না পেরেই আত্মঘাতী হয়েছে তাদের মেয়ে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতার বাবা-মা জানিয়েছেন, রাহুল কুমার, চিন্টু কুমার এবং চন্দন কুমার এই তিন ব্যক্তি তাঁদের মেয়ে গণধর্ষণ করেছে। চতুর্থ ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এই ঘটনায় এখনও গ্রেফতার হয়নি কেউই। চার অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে গয়া পুলিশ। মৃতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে কথা বলা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, গয়া মেডিক্যাল কলেজে ওই নির্যাতিতা কিশোরীর ময়নাতদন্ত হয়েছে। যদিও এখনও রিপোর্ট হাতে আসা বাকি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল ২০১৯ সালের ভিত্তিতে দেশে মহিলাদের উপর নানা ধরনের হওয়া অত্যাচার সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট পেশ করেছে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি)। এনসিবি-র রিপোর্ট অনুসারে এদেশে প্রতি ১৬ মিনিটে একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। প্রতি ২ ঘণ্টায় কোনও না কোনও মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। প্রতি ৩০ ঘণ্টায় একজন মহিলাকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয় এই দেশে। বাকি পরিসংখ্যানগুলো আরও ভয়ঙ্কর। এই রিপোর্টের সব পরিসংখ্যান দেখে আঁতকে উঠছেন সকলে। দেশের পরিস্থিতি যে এতটা ভয়ঙ্কর তা আন্দাজ করতে পারেননি অনেকে। এক একটি তথ্য চোখের সামনে এলে শিউরে উঠতে হচ্ছে। ভয় কেঁপে ওঠা কিংবা আতঙ্কে সিঁটিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনও উপায় নেই। সেই সঙ্গে বারবার মাথাচাড়া দিচ্ছে একটাই প্রশ্ন, মেয়েদের জন্য কতটা সুরক্ষিত আমাদের ভারতবর্ষ? আদৌ কি সুরক্ষিত?