দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাফিজ সইদকে ৫ বছরের জেলের সাজা শোনাল পাক আদালত। জঙ্গিদের অর্থনৈতিক সাহায্য করে হাফিজ সইদ, এই অভিযোগ আগেই উঠেছিল। সেই মামলাতেই এবার ৫ বছরের জেল হয়েছে ২৬/১১ হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদের। তবে কেবল হাফিজ সইদ বা তার সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়া নয়, এই ভাবে বেআইনি ট্রাস্ট তৈরি করে সম্পত্তির পরিমাণ বাড়িয়ে অর্থ জোগাড় করা এবং তা সন্ত্রাসমূলক কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা এবং এফআইএফ-এর বিরুদ্ধেও।
২০০৮ সালে মুম্বই হামলার পরই রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ নিষিদ্ধ করে হাফিজ সইদকে। তার গতিবিধির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয় বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি। সেই সময় থেকেই পাকিস্তানের মদত পুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম প্রধান এবং জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ সইদের উপর আরও কড়া হয় নজরদারি। আর তখনই হাফিজের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে।
গত বছর জুলাই মাসে পাকিস্তান থেকে গ্রেফতার হয় হাফিজ সইদ। সেই সময় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের প্রচার, জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অর্থ সাহায্য ইত্যাদি নানা অভিযোগে চার্জশিট পেশ করে গুজরানওয়ালা আদালত। পাকিস্তানের অ্যান্টি টেররিজম অ্যাক্টের (এটএ ১৯৯৭) ১১ ধারায় হাফিজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। গুজরানওয়ালা, মুলতান, লাহোরে হাফিজ পরিচালিত একাধিক বেনামী সংগঠন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয় সেই সময়। হাফিজ ছাড়াও একই অভিযোগে পাশাপাশি মামলা রুজু হয় তার ১২ জন ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর বিরুদ্ধেও।
পাকিস্তানের সন্ত্রাস মোকাবিলা বিভাগ CTD) জানায়, জামাত-উদ-দাওয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ২৩টি এবং তার ১২ জন ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে পাঁচটি ট্রাস্টকে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর অভিযোগ রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই রুজু হয় এই মামলাগুলি। আল-আনফাল, দাওয়াত উল ইরশাদ এবং মুয়াজ বিল জবল, এইসব ট্রাস্টের নামে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি তৈরি করেছিল হাফিজ সইদ এবং তার সঙ্গীরা। এই সম্পত্তি থেকেই জোগাড় হতো বিপুল পরিমাণ অর্থ। সেটাই লাগানো হতো সন্ত্রাসের কাজে। এই অভিযোগেই, লাহোর, গুজরানওয়ালা এবং মুলতানে মামলা রুজু করা হয়।
মুম্বই হামলা মূল ষড়যন্ত্রী ছিল এই হাফিজ সইদ। সেবার জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ১৬৬ জনের। পাকিস্তানের মাটিতেই হাফিজের বিরুদ্ধে ২৩টি জঙ্গি হামলার মামলা রয়েছে। হাফিজের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে পাকিস্তানকে বহুবার ডসিয়র পাঠিয়েছে ভারত। সেখানে হাফিজের কীর্তিকলাপের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও পাক ভূখণ্ডে হাফিজ সইদের ঘোরাফেরায় কোনও নিষেধাজ্ঞা এতদিন জারি করেনি পাকিস্তান। বরং বেশ নিশ্চিন্তেই ভারত বিরোধী বিভিন্ন র্যালিতে অংশ নিত হাফিজ সইদ। তবে এবার এই কুখ্যাত জঙ্গিকে ৫ বছরের জেলের সাজা শুনিয়েছে পাক আদালত।