দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার শহরে ভাইরাল নিউমোনিয়া হানা দিয়েছে। ঘরে ঘরে জ্বর (Viral Fever), সর্দি-কাশি। চিন্তার কারণ হল এ শহরে বাচ্চাদের মধ্যে ভাইরাল ফিভার মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। নিউমোনিয়ার (Pneumonia) উপসর্গ নিয়ে ডাক্তারের কাছে বাচ্চাদের নিয়ে যাচ্ছেন বাবা-মায়েরা। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে অজানা জ্বরের প্রকোপে আক্রান্ত শতাধিক শিশু। এবার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গেও জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। মেডিক্যাল কলেজে জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ৬ জন শিশু। তাদের মধ্যে চার জনের অবস্থা চিন্তা বাড়িয়েছে।
জলপাইগুড়িতে অজানা জ্বরের কারণ জাপানি এনসেফেলাইটিস বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন ডাক্তাররা। আক্রান্ত শিশুদের রক্ত ও নাক থেকে নেওয়া নমুনা (ন্যাজাল সোয়াব) কলকাতায় নিয়ে এসে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তার মধ্যে এ শহরেও জ্বরে আক্রান্ত হতে শুরু করেছে শিশুরা। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজেই ভর্তি ৬ জন। অসুস্থ বাচ্চাদের শ্বাসনালীর সংক্রমণও নাকি দেখা দিয়েছে। আইসিইউতে রাখতে হয়েছে কয়েকজনকে। তাদের লালা ও রক্তের নমুনা মেডিক্যাল কলেজ ও স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের অনুমান, আরএস ভাইরাস তথা রেসপিরেটারি সিনসিটিয়াল ভাইরাসের (Respiratory syncytial virus) প্রকোপ বেড়েছে। যদিও এ ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য এখনও মেলেনি, তবে আক্রান্তদের উপসর্গ ও রোগের লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন চিকিৎসকরা।
রেসপিরেটারি সিনসিটিয়াল ভাইরাস কী?
করোনার মতোই সিঙ্গল স্ট্র্যান্ডেড আরএনএ ভাইরাস। একে বলা হয় হিউম্যান রেসপিরেটারি সিনসিটিয়াল ভাইরাস (hRSV)। মূলত শ্বাসনালীতে সংক্রমণ ছড়ায় এই ভাইরাস। ছোঁয়াচে, দ্রুত ছড়াতে পারে। একবার শরীরে ঢুকলে ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়ায়। শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। শরীরে ভাইরাল লোড বাড়লে প্রবল শ্বাসকষ্টও হতে পারে।
শিশুরা এই ভাইরাসের প্রকোপে পড়লে ব্রঙ্কিওলাইটিস হতে পারে, বড়দের নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। ধুম-জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসনালীতে প্রদাহ হলে দেরি না করিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়া ভাল। কারণ বেশি বাড়াবাড়ি হলে অসুখ নিউমোনিয়ার পর্যায়ে চলে যেতে পারে।
কলকাতার বিশিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন, কোভিডের মধ্যেই ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বাড়ায় চিন্তা বেড়েছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ডাক্তাররা বলছেন, বড়দের থেকে বাচ্চাদের মধ্যেও জ্বর, সর্দি-কাশি ছড়াচ্ছে। অনেকে পেট ব্যথা, বমি হচ্ছে। জলপাইগুড়িতে বাচ্চাদের মধ্যে ধুম জ্বর ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার লক্ষণ বেশি দেখা যাচ্ছে। এই ভাইরাল জ্বর খুব ছোঁয়াচে, তাড়াতাড়ি সংক্রমিত হতে পারে। বাচ্চারা ভাইরাল জ্বরে খুব তাড়াতাড়ি কাবু হয়ে পড়ে। এখন স্কুল বন্ধ হলেও বড়দের থেকে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বাচ্চাদের মধ্যেও। সাবধান থাকতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তারবাবুরা।