ব়্যাপিড টেস্টের অনুমতি দিল আইসিএমআর, হটস্পটে বা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে কারও ইনফ্লুয়েঞ্জা হলেও অ্যান্টিবডি পরীক্ষা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে ব়্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট অনুমতি দিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ তথা আইসিএমআর। শনিবার সন্ধ্যায় আইসিএমআর-এর তরফে সব রাজ্যকে অ্যাডভাইজরি পাঠিয়ে বলা হয়েছে, যে সব জায়গায় বহু শ্রমিককে একসঙ্গে কোয়ারেন্টাইনে রাখা
শেষ আপডেট: 4 April 2020 15:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে ব়্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট অনুমতি দিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ তথা আইসিএমআর। শনিবার সন্ধ্যায় আইসিএমআর-এর তরফে সব রাজ্যকে অ্যাডভাইজরি পাঠিয়ে বলা হয়েছে, যে সব জায়গায় বহু শ্রমিককে একসঙ্গে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বা হটস্পট এলাকায় যেখানে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে বেশি, সেখানে কারও মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো জ্বরের লক্ষণ দেখা গেলেই ব়্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট করাতে হবে।
অ্যান্টিবডি টেস্টে নেগেটিভ হলেও সন্দেহ হলে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করে দেখা যাবে পারে ওই ব্যক্তি প্রকতৃপক্ষে কোভিড-১৯ পজিটিভ কিনা। তবে কোভিড-১৯ নেগেটিভ হলেও কোনও শ্রমিক বা হটস্পট এলাকায় কারও মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরের লক্ষণ দেখা গেলে তাঁকে বাধ্যতামূলক ভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে।
প্রসঙ্গত, বহু দেশেই করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পরীক্ষার জন্য ব়্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইসিএমআর গোড়ায় ছাড়পত্র দেয়নি। কারণ, বিশেষজ্ঞদের মতে এই পরীক্ষা করে শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি সম্পর্কে ষোল আনা নিশ্চিত হওয়া যায় না। এই পরীক্ষার মোটামুটি তত্ত্ব হল, শরীরে করোনাভাইরাস আক্রমণ করলে শ্বেত রক্তকণিকা স্বাভাবিক নিয়মে অ্যান্টিবডি তৈরি করে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করবে। নির্দিষ্ট ভাইরাসকে ঠেকাতে নির্দিষ্ট রকমেরই কিছু অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার কথা।
তাই অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করলেই ভাইরাসের উপস্থিতি জানা যেতে পারে। এই পরীক্ষা ১৫ মিনিটে করা যায়। তাই একে ব়্যাপিড টেস্ট বলে। কিন্তু আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করতে অনেক সময় লাগে। তা খরচ সাপেক্ষও সব ল্যাবরেটরিতে সেই পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।
আইসিএমআর এর বক্তব্য, অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক ভাবে বোঝা যেতে পারে, কোনও ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে কিনা। এই পরীক্ষা করে প্রয়োজন মতো রোগীদের আইসোলেশনে পাঠানো যেতে পারে। তাই ছাড়পত্র দেওয়া হল। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করতেই হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গোড়া থেকেই বলছে, শুধু লকডাউনে কাজ হবে না। লকডাউন করার পর আঘাত হানতে হবে ভাইরাসকে। তার একটাই উপায়। টেস্টিং টেস্টিং টেস্টিং। যত পরীক্ষা করবে, তত বেশি করে জানা যাবে কারা আক্রান্ত, কারা আক্রান্ত নন। আর কেউ আক্রান্ত হলেই তাঁকে আইসোলেশনে পাঠাতে হবে। যাতে সংক্রমণ আর ছড়াতে না পারে। সংক্রমণের শৃঙ্খলটা ভাঙা যায়। সে দিক থেকে আইসিএমআরের এদিনের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক।
আইসিএমআর জানিয়েছে, আরটি-পিসিআর পরীক্ষা যেহেতু সময় সাপেক্ষ ও খরচ সাপেক্ষ, তাই তার আগে করে নেওয়া ব়্যাপিড টেস্ট জরুরি। তার পরে আরটি-পিসিআরে যদি নেগেটিভ আসে, তাহলে নিশ্চিত হওয়া যায় তখনই। পজিটিভ এলে সর্বোচ্চ সাবধানতা নিতে হবে করোনা-গাইডলাইন মেনে। উপসর্গ যদি দেখা না যায় তেমন ভাবে, তাহলে প্রথম ব়্যাপিড টেস্টের পরে আরও দশ দিন অপেক্ষা করে আরও একটি ব়্যাপিড টেস্ট করতে হবে। সেক্ষেত্রে নেগেটিভ এলে চিন্তামুক্ত হওয়া যাবে। কিন্তু ফের যদি পজিটিভ আসে, তাহলে কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ বাড়াতে হবে আরও ১০ দিন।