
শেষ আপডেট: 26 June 2019 10:04
গত কয়েক দিনে বিহারের মুজফ্ফরপুরে এনসেফ্যালাইটিস মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ১১২ জন শিশুর। আর বেসরকারি কেজরিওয়াল হাসপাতালে মারা গিয়েছে ২০ জন শিশু। বেসরকারি সূত্র বলছে, এর বাইরে গোটা বিহারে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৮০।
এই মৃত্যু মিছিলের পাশাপাশি মুজফ্ফরপুর ও বৈশালী এলাকায় গত দু’মাস ধরেই জলকষ্টে ভুগছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই বিক্ষোভ দেখানোর পথে হাঁটেন হরিবংশপুর গ্রামের মানুষেরা। রাস্তা অবরোধও করেন। জোর গলায় জানান, তাঁরা পানীয় জল চান, ঘরের বাচ্চাদের চিকিৎসা চান। আর এই গলা তোলার পরেই পুলিশের খাতায় নাম উঠল তাঁদের। সমস্যার সমাধান তো হলই না, মিলল না কোনও আশ্বাসও। উল্টে এফআইআর দায়ের করা হল তাঁদের একাংশের নামে!
বৈশালীর হরিবংশপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দু’মাস ধরে ভয়াবহ গরম পড়েছে। বর্ষার চিহ্ন নেই। বৃষ্টি হয়নি বহু দিন। তাই তাঁদের জীবন ক্রমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে শুরু হয়েছে জলের হাহাকার। সেই সঙ্গে ঘরে ঘরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন সকলে। এনসেফ্যালাইটিস কাউকে ছাড়ছে না। অসুস্থ রোগীরাও পরিষ্কার পানীয় জল পাচ্ছেন না।
তাঁরা জানান, এই বিষয়টি বারবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। উল্টে তিনি আর কারও কোনও ফোন কলই ধরছেন না। লিখিত আবেদন জানাতে গেলেও নিচ্ছেন না। তাই বাধ্য হয়েই বিক্ষোভ দেখাতে হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। কিন্তু বিক্ষোভ দেখানোর জেরে যে এই অবস্থা হবে, তা বুঝেতে পারেননি কেউ।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিহার সরকারের এমন অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে নিন্দার ঝড়। স্বাভাবিক ভাবেই এই পরিস্থিতির সুবিধা নিতে আসরে নেমেছেন বিরোধীরা। তাঁরা বলছেন, মূল সমস্যার সমাধান না করে সাধারণ মানুষের উপর এমন আক্রমণ স্বেচ্ছাচারী শাসনেরই নামান্তর।
যে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তাঁদের আত্মীয়-পরিজনেরা বলছেন, "আমাদের বাচ্চারা মরে গেছে। আরও অনেকে অসুস্থ। আমাদের ঘরে জল নেই। আমরা বাধ্য হয়ে পথে নেমেছিলাম। আর আমাদের কথা শোনার বদলে আমাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করা হল! যাদের নামে এফআইআর, তারা গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের ঘরের খাবার জোগাড় কে করবে, তার ঠিক নেই।"