দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া প্রায় ৬০টি মামলার শুনানি আজ, বুধবার উঠবে সুপ্রিম কোর্টে। যে আইনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহে ধরে দেশ জুড়ে তুমুল অশান্তি চলছে, তা নিয়ে পর্যালোচনা করবে শীর্ষ আদালত। এ নিয়ে যারা মামলা দায়ের করেছেন, তাঁদের মধ্যে প্রধান হলেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ, কেন্দ্রীয় মুসলিম লিগ, অসম গণ-পরিষদ এবং অসমের বিজেপি সরকার।
প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া একটি তিন জনের বেঞ্চ এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুনবে। ওই বেঞ্চের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারপতি বিআর গাভাই এবং সূর্য কান্ত।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বলছে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে যত অ-মুসলিম ব্যক্তি ধর্মীয় কারণে উৎপীড়িত হয়ে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারতে এসেছেন, তাঁরা সকলেই শরণার্থী হিসেবে এ দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই আইনের বিরুদ্ধে যে সব মামলা দায়ের হয়েছে, সে সবের মোদ্দা বক্তব্য হল, নাগরিকত্ব পাওয়ার মাপকাঠি কখনওই ধর্ম হতে পারে না। এটা সংবিধান বিরোধী।
নতুন আইনটির মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে বিবেচনা করে অবৈধ অভিবাসীদের দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সংবিধানের মূল কাঠামোর পরিপন্থী। আবার মুসলিম ব্যক্তিদের শুধু ধর্মের কারণে দেশ ছাড়তে হবে। মামলাকারীদের দাবি, সংবিধান অনুযায়ী ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। যে কোনও ধর্মীয় বিশ্বাসের মানুষের সঙ্গে সমান আচরণ করতে বাধ্য এ দেশের সরকার। নতুন আইন সেই সংবিধানকে আঘাত করছে। এই আইন নাগরিকদের জীবন ও মৌলিক অধিকার তথা সাম্যের অধিকারও লঙ্ঘন করে।
কয়েক সপ্তাহ আগে সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে এসেছিল বিজেপি। গত বুধবার মধ্যরাতে তাতে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, তার পরেই এটি আইনে পরিণত হয়েছে। প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছে সারা দেশ জুড়ে। বিক্ষোভে-বিদ্রোহে পথে নেমেছে সমস্ত বিরোধী দল, ছাত্রসমাজ, সাধারণ মানুষ। অসমে হিংসার বলি হয়েছেন পাঁচ জন।
রবিবার দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ও উত্তরপ্রদেশের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা প্রতিবাদ জানালে তাঁদের উপর পুলিশি নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে। করা হয় লাঠিচার্জ, ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস, জলকামান। পাল্টা পাথর ছোড়া হয় পুলিশকে। আগুন ধরে যায় বাসে, ভাঙচুর হয় যানবাহন। আটক করা হয় শতাধিক পড়ুয়াকে। এর প্রতিবাদে পথে নামে গোটা দেশের ছাত্রছাত্রীসমাজ।
এই ঝামেলার রেশ মিটতে না মিটতেই মঙ্গলবার রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে পূর্ব দিল্লির সীলামপুর এলাকা। বিক্ষোভকারী প্রতিবাদীদের সঙ্গে পুলিশি সংঘাতে বন্ধ হয়ে যায় রাস্তা, মেট্রো। কাঁদানে গ্যাস ফাটিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। লাঠিচার্জও করা হয় নির্বিচারে।
মঙ্গলবারই শহর কলকাতায় বিশাল এক মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ জানিয়ে দেন, এই নাগরিকত্ব আইন চালু করতে হলে তাঁর মৃতদেহের উপর দিয়ে করতে হবে। তিনি মানছেন না এই আইন। একই ভাবে এই আইন কোনও ভাবেই মেনে নেবেন না বলে জানিয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহ।