Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

কাসভ যে ভূমিপুত্র খুল্লামখুল্লা জানাল পাক টক শো

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের ২৬/১১ জঙ্গি হানার অন্যতম কুশীলব আজমল কাসভ যে পাকিস্তানি এই নিয়ে সন্দেহ ছিল না কারও। গোটা পৃথিবীতে একমাত্র পাকিস্তানই সে কথা মেনে নেয়নি। দাবিও করেনি ভারতের জেলে ফাঁসি হওয়া কাসভের মৃতদেহ। সেই দাবিই এ বার মেনে নিলেন

কাসভ যে ভূমিপুত্র খুল্লামখুল্লা জানাল পাক টক শো

শেষ আপডেট: 7 January 2019 12:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের ২৬/১১ জঙ্গি হানার অন্যতম কুশীলব আজমল কাসভ যে পাকিস্তানি এই নিয়ে সন্দেহ ছিল না কারও। গোটা পৃথিবীতে একমাত্র পাকিস্তানই সে কথা মেনে নেয়নি। দাবিও করেনি ভারতের জেলে ফাঁসি হওয়া কাসভের মৃতদেহ। সেই দাবিই এ বার মেনে নিলেন এক পাকিস্তানি মহিলাই। পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির চ্যানেল জিও টিভির স্টুডিওতে বসে। টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে। বললেন, সত্যি কতদিন লুকিয়ে রাখা যাবে? জিও টিভির লোগো লাগানো সেই ভিডিওতে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ওই ভদ্রমহিলা জানাচ্ছেন, পাকিস্তানে তাঁদের গ্রাম আজমল কাসভের গ্রাম ফরিদকোট থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরে। এই ভদ্রমহিলার বাবা ওই অঞ্চলে দুস্থ বাচ্চাদের জন্য অনেকগুলো স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার মধ্যে একটা ফরিদকোটে। ওই ভদ্রমহিলা দাবি করেন, ২০০৮ সালে আজমল কাসভের পরিচয় জানাজানি হতেই, তিনি খবর নিতে ফরিদকোটে কিছু লোক পাঠিয়েছিলেন। তাঁরাই ফিরে এসে তাঁকে জানান যে ফরিদকোটের বাচ্চাকাচ্চারাও আজমল কাসভ ও তার বাবা আমির কাসভকে চেনে। ওখানকার গ্রামের লোকেরা আরও জানিয়েছে, তিন চার বছর আগেই আজমল কাসভকে গ্রাম থেকে উগ্রপন্থী সংগঠনের লোকেরা নিয়ে গিয়েছিল। মুম্বই হামলার মাস ছয়েক আগে আবার গ্রামে ফিরে এসেছিল কাসভ। সে তার মাকে বলেছিল, “আমার মাথায় হাত রাখো। আমি কাশ্মীরকে মুক্ত করতে যাচ্ছি।“ মাকে কিছু টাকা দিয়ে সে তার বোনের বিয়ের ব্যবস্থাও করতে বলেছিল। https://www.facebook.com/TheWallNews/videos/318106972205609/ ভদ্রমহিলা আরও জানান, “এই সব কথা ফরিদকোটের সবাই জানে। কিন্তু এখন আমরা সবাই জানি যে আজমল কাসভের পরিবার ওখানে আর নেই। ওঁদের কারা ওখান থেকে নিয়ে গেল? ওখানকার লোকেরা জানিয়েছে যে কাসভের পরিবার নিজে থেকে যেতে চায়নি। তাদের জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই সময় তারা কাঁদছিল।” এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ভদ্রমহিলা বলেন, “এই সব জিনিস লুকিয়ে ফেলা যায় না। বরং সেটা করতে গেলে সবার মনে সন্দেহ তৈরি হয়। শুধু ভারত নয়, গোটা আন্তর্জাতিক মহলই এই ঘটনা নিয়ে বিরক্ত। সবাই জানে, পাকিস্তানের হাল খুব খারাপ। নিজের শাসনযন্ত্রের ওপরেই নিয়ন্ত্রণ নেই পাক সরকারের। এর ওপর যদি অর্থনৈতিক স্যাংশান বা ব্লকেড লাগানো হয় তাহলে পাকিস্তানের কী অবস্থা হবে? আমাদের তো ছ’দিনের বেশি তেল নেই। খাদ্য শস্য নেই। এরপর অর্থনৈতিক প্রতিরোধ বা যুদ্ধ হলে দেশের অবস্থা তো শোচনীয় হয়ে যাবে।“ তিনি আরও বলেন, যে কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন দেশ হয়ে দায়িত্বের সঙ্গে এই সব বিষয় সামলানো উচিত পাকিস্তান সরকারের। এই ভদ্রমহিলা যতক্ষণ কথা বলছিলেন, ততক্ষণ একদম চুপ করে ছিলেন সঞ্চালক। একবারও তাঁকে দেখা যায়নি এই ভদ্রমহিলাকে বাধা দিতে বা অন্য প্রসঙ্গের অবতারণা করতে। বোঝাই যাচ্ছিল, এই ভদ্রমহিলার কথার যুক্তি তিনি মেনে নিচ্ছেন। জেলে থাকার সময় ভারতের পাকিস্তান হাইকমিশনকে চিঠিও লিখেছিল কাসভ। সেই চিঠিতে সে জানিয়েছিল যে, সে নিজে এবং ওই হামলায় মৃত আরও নয় জঙ্গি পাকিস্তানি। তাকে আইনি সাহায্য দেওয়ার জন্য এবং বাকি নয় জঙ্গির দেহ ফেরত নেওয়ার জন্য সে পাকিস্তানি দূতাবাসকে অনুরোধ করেছিল বলেও জানা যায়। মুম্বই জঙ্গি হামলার পরপর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টেই বারবার উঠে এসেছিল কাসভের পাকিস্তানি হওয়ার কথা। সেই সময় পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও মেনে নিয়েছিলেন কাসভ পাকিস্তানের ফরিদকোটেরই বাসিন্দা। ওই গ্রাম ঘিরে রেখে, কাসভের পরিবারকে কারও সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছে না পাকিস্তানের সরকার এমন অভিযোগও করেছিলেন তিনি। ফাঁসির পর কাসভকে পুণের ইয়েরওয়াড়া জেলের মধ্যেই ইসলামিক রীতি মেনে কবর দেওয়া হয়। সেই সময়ে মানবিক কারণে কাসভের মৃতদেহ পাকিস্তানে পাঠানোর জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন সে দেশের মানবাধিকার কর্মী আনসার বার্নি। পাকিস্তান সরকারি ভাবে আর্জি জানালে সেই আবেদন মঞ্জুর করা হতে পারে বলে জানানোও হয়েছিল ভারত সরকারের পক্ষ থেকে। পরে অবশ্য সরকারি সূত্র থেকে জানা যায়, কাসভের মৃতদেহ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য পাকিস্তান থেকে কোনও অনুরোধই আসেনি। তাই শেষ পর্যন্ত তাকে জেলের ভিতরেই কবর দিতে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া জিও টিভির লোগো লাগানো এই ভিডিও অবশ্য পরীক্ষা করে দেখেনি দ্য ওয়াল। এই ভিডিওটা দেখে মনে করাই যেতে পারে, আজমল কাসভ যে পাকিস্তানি ছিল এই নিয়ে সে দেশের জনমানসেও কোনও প্রশ্ন নেই। বরং ক্রমশ অর্থনৈতিক ভাবে ভেঙে পড়া পাকিস্তানে, মৌলবাদী জঙ্গিদের সরকারি সমর্থন দেওয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সেই দেশের মানুষও।

```