দ্য ওয়াল ব্যুরো: জায়গার নাম বদল করা নিয়ে বারবারই বিতর্ক তৈরি করেছে বর্তমান শাসকদল। তারা কখনও বদলে দিয়েছে মুঘলসরাই স্টেশনের নাম, কখনও প্রস্তাব রেখেছে আগ্রা শহরের নাম বদলে দেওয়ার। এবার ফের সামনে এল নাম-বিতর্ক, সেই যোগী রাজ্যেই। যোগী সরকার দাবি করেছে, মেরঠ শহরের নাম বদলে দেওয়া হবে এবার। কিন্তু কী নাম রাখা হবে, তা শুনেই চমকে উঠেছেন অনেকে। কারণ সরকারের দাবি, মেরঠের নাম বদলে রাখা হবে পণ্ডিত নাথুরাম গডসে নগর।
জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে হত্যাকারীর নাম কী করে এ দেশের একটি শহরের পরিচয় হতে পারে, তা বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকেই। তবে নাথুরাম গডসেকে নিয়ে এর আগেও বহু বিতর্ক তৈরি করেছে এই সরকার। চলতি বছরেই নাথুরাম গডসের জন্মদিন উপলক্ষে বিজেপির হিন্দু মহাসভার নেত্রী পূজা শকুন পাণ্ডে প্রকাশ্যে গুলি করেছিলেন গান্ধীজির ছবিতে। চরম সমালোচনা হয়েছিল দেশজুড়ে। কিন্তু এবার সেই গডসের নামে শহর!
এই নাম আদৌ জনমত গ্রাহ্য হবে কিনা তা জানতে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে রাজ্য প্রশাসন। মেরঠের পাশাপাশি, একই ভাবে প্রস্তাব উঠেছে যে গাজিয়াবাদের নাম পাল্টে রাখা হবে মহান্ত দিগ্বিজয় নগর। হা পুর শহরের নাম বদলে হবে অবৈদ্যনাথ নগর। মুজফ্ফরনগরেরও নাম বদলের কথা চলছে।
সূত্রের খবর ভাবনাচিন্তা চললেও, মেরঠ, গাজিয়াবাদ ও মুজফ্ফরনগরের নাম বদলের সিদ্ধান্তে এখনও পুরোপুরি স্বস্তি পাচ্ছে না রাজ্য প্রশাসন। তাই এই তিন জেলার ডিএমের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
তবে হা পুর শহরের নাম বদল নিয়ে দলের অন্দরেই থেকে গিয়েছে বিতর্ক। কারণ শোনা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের গুরু যিনি, তিনি এই নাম বদল চাইছেন না নাকি। তাই সেখানকার জেলা প্রশাসনের তরফে এই নাম বদলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কিন্তু বাকি তিন জেলার মতামত চেয়ে পাঠিয়েছে উত্তপ্রদেশের স্বরাষ্ট্র দফতর। নাম বদল হলে সাধারণ মানুষের তরফে কোনও আপত্তি উঠবে কিনা, সেটাই একমাত্র ভাবনার বিষয় সরকারের।
এই অবস্থায় জেলা সদর দফতরগুলি পড়েছে ফাঁপরে। নাম বদল না করার প্রেক্ষিতে জবাব দিলে, সরকারের রোষের মুখে পড়তে পারে তারা। আবার বদল করার পক্ষে মত দিলে, তার সঙ্গে জড়িয়ে যায় আরও অনেকগুলি বিষয়। এ বিষয়ে জড়িত, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকা বা স্তর থেকে নামকরণের অনুরোধ-উপরোধ, দাবি আসতেই পারে। সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকও এ বিষয়ে খতিয়ে দেখে মত দিতে পারেন। কিন্তু সেখান থেকে ইতিবাচক উত্তর মেলার পরেও দেখতে হয়, নতুন নামটির সঙ্গে আদৌ সে জায়গার ইতিহাসের কোনওরকম যোগ আছে কি না। যদি তা না থাকে, তা হলে নাম বদলে সমস্যা থাকতে পারে।