দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা যুদ্ধে অবশেষে হার মানলেন কলকাতা পুলিশের এসিপি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ভোরে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই নিয়ে কলকাতা পুলিশের মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই প্রথম এসিপি পদাধিকারী কোনও আধিকারিক করোনার বলি হয়েছেন।
সূত্রের খবর, দিন সাতেক ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এসিপি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। উপসর্গ দেখা দেওয়ায় কোভিড টেস্ট করান অফিসার। রিপোর্ট আসে পজিটিভ। এরপরেই হাসপাতালে ভর্তি হন এসিপি। সূত্রের খবর, গত তিন-চারদিন ধরে ভেন্টিলেশনে ছিলেন এসিপি। চিকিৎসায় কোনও ভাবেই সাড়া দিচ্ছিলেন না উদয় শঙ্কর বাবু। তখন থেকেই এসিপির শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন চিকিৎসকরা। শেষ পর্যন্ত করোনার কাছে হার মানলেন কলকাতা পুলিশের অন্যতম দক্ষ এসিপি।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের প্রায় ১৮০০ জন সংক্রামিত হয়েছেন। সুরক্ষার স্বার্থে লালবাজারের ভিতরে তৈরি হয়েছে পৃথক আইসোলেশন সেল। কিন্তু তাতেও কোনও ভাবেই এড়ানো যাচ্ছে না করোনার সংক্রমণ। আজ এসিপি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর আতঙ্ক আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে লালবাজারে। একদম সামনের সারিতে থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে যোদ্ধাদের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে চিন্তায় রয়েছে প্রশাসনও।
এর আগে আরও ৮ জন ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর পদের অফিসাররা করোনা লড়াইয়ে হার মেনেছেন। গত ৬ জুন করোনায় মৃত্যু হয় কলকাতা পুলিসের সাউথ ডিভিশনের কনস্টেবল সেবাস্তিয়ান খাকার। এরপর ১৩ জুন মারা যান শিয়ালদহ ট্রাফিক গার্ডের কনস্টেবল দিলীপ সর্দার। ১২ জুলাই করোনায় মৃত্যু হয় কলকাতা পুলিশের ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের সিভিক ভলান্টিয়ার সুব্রত দাসের। এরপর ২৪ জুলাই মারা যান হেস্টিংস থানার কনস্টেবল কৃষ্ণকান্ত বর্মন। ওই একই দিনে করোনায় মৃত্যু হয় কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের ইকুইপমেন্ট সেলের অফিসার ইনচার্জ অভিজ্ঞান মুখার্জির। গত ২৯ জুলাই করোনায় মৃত্যু হয় চারু মার্কেট থানার কনস্টেবল দেবেন্দ্র নাথ তির্কির। এরপর ৩১ জুলাই করোনায় মৃত্যু হয় চিৎপুর থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর তপন চন্দ্র কুমারের। তারপর ২ অগস্ট করোনায় মৃত্যু হয় জোড়াবাগান ট্রাফিক গার্ডের কনস্টেবল দীপঙ্কর সরকারের।