পুলওয়ামা কাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড কে এই কামরান?
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামায় সিআরপিএফের কনভয়ে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার পর পরই তদন্তে নেমে পড়েছিল জম্মু কাশ্মীর পুলিশ, সেনা গোয়েন্দা এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর অফিসাররা। ওই টিমে নেওয়া হয়েছিল উপত্যকায় কর্তব্যরত কয়েক জন র’ অফিসারকেও। সূত্রের খ
শেষ আপডেট: 17 February 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামায় সিআরপিএফের কনভয়ে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার পর পরই তদন্তে নেমে পড়েছিল জম্মু কাশ্মীর পুলিশ, সেনা গোয়েন্দা এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর অফিসাররা। ওই টিমে নেওয়া হয়েছিল উপত্যকায় কর্তব্যরত কয়েক জন র’
অফিসারকেও। সূত্রের খবর, ঘটনার রাতেই প্রাথমিক তদন্তের পর গোয়েন্দাদের মূল সন্দেহ গিয়ে পড়ে জইশ ই মহম্মদের এক কম্যান্ডান্টের উপর। যার নাম আবদুল রশিদ গাজি, ওরফে কামরান। গোয়েন্দাদের একাংশের সন্দেহ ছিল, পুলওয়ামা কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হল এই কামরানই।
কিন্তু এই কামরান কে?
গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, আবদুল রশিদ গাজি আফগানিস্তানের বাসিন্দা। প্রথম জীবনে সে আফগান সেনায় কাজ করেছে। আই ই ডি তথা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস তৈরিতে পাকা হাত এই কামরানের। তাকে আফিগানিস্তান রিক্রুট করেছিল জইশ চিফ মাসুদ আজহার। তার পর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশ মহম্মদের ক্যাম্পে বেশ কিছু দিন ছিল আবদুল রশিদ। বস্তুত সেই সময়েই তার সঙ্গে সখ্য তৈরি হয় মাসুদ আজহারের। তার গত ডিসেম্বর মাসে ভারত-পাক নিয়ন্ত্রণ রেখা পার করে ভারতে ঢুকেছিল সে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের একটি সূত্র কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, সম্ভবত ৯ ডিসেম্বর ভারতে ঢুকেছিল কামরান। তার পরিচয় তখনই জানতে পেরেছিলেন তাঁরা। এমনকী এও জানতে পেরেছিলেন, আবদুল রশিদ গাজি পুলওয়ামা, অবন্তীপোরা ও ত্রাল এলাকাতেই কোথাও পরিচয় গোপন করে রয়েছে। পরে এ-ও জানা যায়, কাশ্মীরে এসে নতুন নাম নিয়েছে আবদুল রশিদ- কামরান।
পুলওয়ামার ঘটনার পর থেকেই পুলওয়ামা, অবন্তীপোরা, ত্রাল এলাকা প্রায় সিল করে দিয়েছিল সেনা বাহিনী ও সিআরপিএফ। মূল কৌশল ছিল কোনও জঙ্গিই ওই চত্বর থেকে যেন বেরিয়ে যেতে না পারে। তার পর চিরুণি তল্লাশিতে নেমে পড়েছিলেন সেনা জওয়ানরা। ক্রমশ বৃত্তটা ছোট করে আনতে আনতেই রবিবার বিকেলে তাঁরা খবর পান, পুলওয়ামাতেই গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে কামরান। ফলে দেরি না করে রাত ঘনাতেই শুরু হয়ে যায় সেনা অপারেশন।
সোমবার সকালে বাহিনীর গুলিতেই মারা গিয়েছে কামরান। যা পুলওয়ামা কাণ্ডের সেনা বাহিনীর প্রথম সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। তবে গোয়েন্দা সূত্রে বলা হচ্ছে, কামরান মূল মাস্টারমাইন্ড ছিল কিনা সে বিষয়ে গোয়েন্দাদের মধ্যেই দ্বিমত রয়েছে। গোয়েন্দাদের একাংশের মত, কামরান হয়তো গোটা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু ঘাতক গাড়িটিতে আই ই ডি রাখার ব্যাপারে তার হয়তো ভূমিকা ছিল না। কারণ, মতান্তরে ওই ঘাতক গাড়িটিতে একশো কেজির বেশি বিস্ফোরক ছিল। তা টাইট করে বাঁধা থাকলে ও দিনের ঘটনায় আরও বড় ক্ষতি হতে পারত। কিন্তু বিস্ফোরণে যে মাপের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাতে মনে করা হচ্ছে, আইইডি বাঁধার কাজটি খুব পাকা হাতে হয়নি।
গোয়েন্দা সূত্রে বলা হচ্ছে, কামরান মারা গেলেও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েক জনকে খোঁজা হচ্ছে। তদন্ত এবং অপারেশন এখন চলবে।
আরও পড়ুন:
https://thewall.in/news-national-pulwama-encounter-crpf-convoy-attack-mastermind-kamran-killed/