
সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল বোস এবং রায়াত হোসেন সরকার।
শেষ আপডেট: 4 July 2024 22:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪ জুন ফল প্রকাশ হয়েছিল। ১ মাস পর শপথের অনুমোদন দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তবে জট কি কাটল?
বরাহনগর এবং ভগবানগোলার জয়ী দুই প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রায়াত হোসেন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করানোর জন্য ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে দ্বায়িত্ব দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে এখবর জানিয়েছেন রাজ্যপাল নিজেই।
বিধায়কদের শপথগ্রহণে রাজভবন এবং বিধানসভার কী ভূমিকা, তার বিস্তারিত উল্লেখ করে রাজ্যপাল লিখেছেন, তিনি নব নির্বাচিত দুই বিধায়কদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর দায়িত্ব দিচ্ছেন ডেপুটি স্পিকারকে।
— Raj Bhavan Kolkata (@BengalGovernor) July 4, 2024
তবে এব্যাপারে রাজভবন থেকে এখনও কোনও চিঠি আসেনি বলে জানিয়েছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। একই মন্তব্য ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ফলে রাজ্যপাল অনুমতি দেওয়ার কথা বললেও শপথ জট সত্যি কাটল কিনা, তা নিয়ে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, রাজভবন থেকে চিঠি এলে তা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন ডেপুটি স্পিকার। স্পিকার থাকতে তাঁকে কেন শপথগ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে ঘনিষ্ঠমহলে প্রশ্ন তুলেছেন আশিসবাবু। সূত্রের দাবি, রাজভবনের চিঠি এলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
রীতি অনুযায়ী, বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজ্যপালের অনুমতি প্রয়োজন। সেজন্য সম্প্রতি রাজ্যপালকে চিঠি লিখেছিলেন স্পিকার। এ ব্যাপারে রাজ্যপালকে সংবিধানের নিয়মের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন বিমানবাবু। এরপরই রাজভবনে শপথবাক্য পাঠ করাতে চেয়ে সায়ন্তিকা ও রায়াতকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন রাজ্যপাল। তবে রাজভবনের পরিবর্তে তাঁরা বিধানসভায় শপথবাক্য পাঠ করতে চান বলে রাজ্যপালকে জানিয়ে দেন।
সম্প্রতি রাজভবনের এক অস্থায়ী মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যপাল বোসের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার পরোক্ষে ওই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "রাজভবনে যা কীর্তি-কেলেঙ্কারি চলছে, তাতে মেয়েরা যেতে ভয় পাচ্ছে বলে আমার কাছে অভিযোগ করেছে।’’
এরপরই সায়ন্তিকাও জানিয়ে দিয়েছিলেন, "আমি আগেই বলেছিলাম বিধানসভায় শপথ নেব। এবার নেত্রীও বলে দিয়েছেন। ফলে রাজভবনে যাওয়ার প্রশ্নই উঠছে না।"
এদিকে তিন সপ্তাহ পরেও শপথগ্রহণ না করতে পেরে বিধায়ক হিসেবে এলাকার মানুষের কাজ করতে পারছেন না, এই অভিযোগে ২৬ জুন থেকে বিধানসভার বাইরে বাবাসাহেব আম্বেদকরের মূর্তির সামনে ধর্নায় বসেন সায়ন্তিকারা। অন্যদিকে রাজ্যপাল দিল্লি চলে যান।
দু'পক্ষই নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শপথ নিয়ে জটিলতা বাড়ছিল। এরই মাঝে রাষ্ট্রপতি এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে ফোন করেন বিধানসভার স্পিকার। অবশেষে শপথে অনুমোদন দিলেন বোস। অন্তত টুইটে এমনই দাবি রাজ্যপালের। এখন দেখার আগামীকাল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয় কিনা।