
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 24 February 2025 14:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। তার আগে কলকাতার ধনধান্য স্টেডিয়ামে চিকিৎসকদের (Doctors) নিয়ে সম্মেলন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে চিকিৎসকদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুধু তাই নয়, কয়েকদফা নিয়মকানুনের বজ্রআঁটুনিও আলগা করেছেন তিনি।
সোমবার পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতরের (West Bengal Health Department) তরফে আয়োজিত 'চিকিৎসার আরেক নাম সেবা' শীর্ষক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, সিনিয়র চিকিৎসকরা এবার থেকে ২০ নয় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যেই তাঁদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস (Private Practice) করতে পারবেন।
এদিন সম্মেলন থেকে মমতা সিনিয়র চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, "সিনিয়র ডাক্তারদের অনুরোধ করব দয়া করে সবটা জুনিয়রদের ওপর ছেড়ে দেবেন না। অন্তত আট ঘণ্টা সরকারি পরিষেবা দিন। তারপরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করুন, তাতে আমার আপত্তি নেই। আমি আপনাদের জন্য বেঁধে দেওয়া ২০ কিলোমিটারটা ৩০ কিলোমিটার করে দিলাম। কারণ কলকাতায় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে অনেক হাসপাতাল আছে। কিন্তু সরকারি পরিষেবা দেওয়ার সময় প্লিজ যাবেন না। দরকার হলে হাসপাতালে ডেকে নিন। আমাদের তো পরিকাঠামো আছে। সেখানে যা করার করুন।"
ক’দিন আগেই স্বাস্থ্য ভবন জানিয়েছিল, সরকারি চিকিৎসকরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। প্রত্যেক চিকিৎসককে সপ্তাহে ন্যূনতম ৬ দিন এবং ৪২ ঘণ্টা ডিউটি করতেই হবে। পরে আরও কড়া নির্দেশিকা দিয়ে জানানো হয়, সরকারি চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রের ২০ কিমির বাইরে করা যাবে না প্রাইভেট প্র্যাকটিস। পাশাপাশি ডিরেক্টর অব হেলথ সার্ভিস বা ডিরেক্টর অব মেডিক্যাল এডুকেশনের থেকে 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' নিতে হবে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের জন্য।
অর্থাৎ উত্তরবঙ্গে কোনও চিকিৎসক দক্ষিণবঙ্গে এসে প্রাইভেটে রোগী দেখার সুযোগ পাবেন না। প্রাইভেট প্র্যাকটিসের জন্য শুধুমাত্র নন-প্র্যাকিটিসিং অ্যালাউয়্যান্স না নিলেই হবে না, প্রয়োজন হবে এনওসির। সোজা কথায়, প্রাইভেট প্র্যাকটিসের জন্য ঊর্ধ্বতনের অনুমতি ব্যতীত এক পাও চলতে পারবেন না সরকারি চিকিৎসকরা।
তবে আজকের সম্মেলন থেকে সেই আঁটসাঁট বিধি খানিকটা লাঘব করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে চিকিৎসকদের জন্য মমতার এহেন ঘোষণা একপ্রকার মাস্টারস্ট্রোক। আরজি কর কাণ্ডের পর যেভাবে সরকারের বিপক্ষে গিয়ে চিকিৎসকদের একাংশ রাস্তায় নেমেছিলেন, সেই ক্ষতে অনেকটাই প্রলেপ পড়ল 'চিকিৎসার আরেক নাম সেবা' শীর্ষক সম্মেলনের ঘোষণায়।