
শেষ আপডেট: 23 May 2023 17:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাক সেনার গণহত্যার ঘটনার স্বীকৃতি চেয়ে গত বছর মার্কিন সংসদে প্রস্তাব পেশ হয়েছে। সে দেশের দু’জন সাংসদ তাঁদের প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ওই গণহত্যাকে স্বীকৃতি দিতে অনুরোধ করেছেন। বাংলাদেশ সরকার এই নিয়ে গোটা বিশ্বে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই চেষ্টায় এবার নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিনিধি দল (Netherlands representatives go to Bangladesh) সাত দিনের সফরে গিয়েছে বাংলাদেশে (Bangladesh)।
তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বক্তব্য সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশ সরকারের তরফে তাঁদের হাতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। ফিরে গিয়ে তাঁরা নেদারল্যান্ড (Netherlands) সরকার এবং সে দেশের সংসদের কাছে রিপোর্ট পেশ করবে।
ইওরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরামের উদ্যোগে নেদারল্যান্ডের এই প্রতিনিধিদলের এই বাংলাদেশ সফর। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন গণহত্যা বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি হলসলাগ, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ক্রিশ ব্ল্যাকবার্ন এবং বাংলাদেশ ইওরোপিয়ান ফোরামের ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডের চ্যাপ্টারের প্রধান যথাক্রমে আনসার আহমেদ উল্লাহ এবং বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের বাণিজ্য শহর চট্টগ্রামে যাবে। প্রতিনিধি দলের নেতা ভ্যান বমমেল বলেন, নেদারল্যান্ড হল সেই দেশ যারা মুক্তিযুদ্ধের পরের বছরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। স্বভাবতই গণহত্যা নিয়ে সে দেশের স্বীকৃতি বাংলাদেশের লড়াইকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার আন্তর্জাতির দুনিয়ায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের স্বাধীনতার যুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনাগুলিকে বিশ্বের ঘৃণ্যতম গণহত্যার তালিকায় নথিভুক্ত করা হোক। ইতিমধ্যে ব্রিটিশ সংসদে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

১৯৭১-এ ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে-পরে পূর্ববঙ্গের মাটিতে অসংখ্য গণহত্যা সংঘটিত করেছিল পাক সেনা। তারমধ্যে নৃশংসতম গণহত্যাটি ছিল ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের রাতেরটি। সেই রাতে শুধু রাজধানী ঢাকায় হত্যা করা হয়েছিল দশ হাজারের বেশি মানুষকে। নিহতের তালিকায় রাজনীতিক থেকে শুরু করে মুক্তিকামী লেখক-শিল্পী-বুদ্ধিজীবীরা যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন স্বাধীনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক, দোকানদার, রিকশ চালক, মুটে মজুররাও।
বাংলাদেশ সরকারের দাবি, পৃথিবীতে যত গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে ঢাকার সেই কালরাত্রির হত্যাকাণ্ড সেগুলির অন্যতম। কিন্তু পাক প্রশাসন নানাভাবে তথ্য, নথি নষ্ট করে ফেলায় এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অভাবে উপযুক্ত দলিল সেই সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সরকার ও সে দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষকেরা পূর্ণাঙ্গ দলিত তৈরি করেছেন। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক ফোরামে লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে গণহত্যাকে স্বীকৃতি দিয়ে পাকিস্তানের নিন্দা করানো যায়।
প্রসঙ্গত, ২৫-২৬ মার্চ গভীর রাতেই ঢাকার ধানমুণ্ডির বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন শেখ মুজিবুর রহমান। তার আগে তিনি পুলিশের ওয়্যারলেস মারফৎ যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে বলেন, আজ থেকে আমরা স্বাধীন। যতদিন না দেশকে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করতে পারব, ততদিন যুদ্ধ চলবে। শেখ হাসিনা সরকার ২০১৭ সাল থেকে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসাবে পালন করে আসছে।

পাক বাহিনী ২৫ মার্চের গণহত্যার নাম দিয়েছিল অপারেশন সার্চ লাইট। নির্বিচারে খুন করা হলেও তার মধ্যে বাছাই করা একটি অংশকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়। পাক সেনা বিশেষভাবে হামলা চালায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হস্টেল, শিক্ষকদের কোয়াটার্স এবং লেখক-বুদ্ধিজীবীদের বাসস্থানে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে সে দেশের যে দুই সাংসদ ওই হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গণহত্যার তালিকায় নথিভুক্ত করার দাবি তুলেছেন তাঁরা হলেন, রো খান্না এবং স্টিভ চ্যাবট। প্রস্তাবে গণহত্যার জন্য পাকিস্তান সরকারকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও পেশ করা হয়েছে। রিপাবলিকান দলের সদস্য স্টিভ চ্যাবট টুইটে লেখেন, ‘১৯৭১ সালের বাংলাদেশে সংঘঠিত গণহত্যার ঘটনা আমরা ভুলে যেতে পারি না। ওই গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘অপরাধীদের এই বার্তা যাবে যে এ জাতীয় অপরাধ সহ্য করা হবে না।’
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানি শাসকদের মধ্যে এখনও পর্যম্ত একমাত্র প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বাংলাদেশে পাক বাহিনীর নৃশংসতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে ক্ষমা কেউ চাননি।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, পাকিস্তানের চলতি পরিস্থিতিকে ইমরান ১৯৭১-এর পূর্ববঙ্গের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বলেছেন, সেই সময় পূর্ববঙ্গে বাঙালিদের উপর অন্যায় অত্যাচার করেছিল পাক সেনা। আরও বলেছেন, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও শেখ মুজিবুর রহমানকে যেভাবে তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে দেওয়া হয়নি, একইভাবে সেনাকে দিয়ে ষড়যন্ত্র করে তাঁকেও ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে নির্বাচন করছে না বর্তমান পাক সরকার। ইমরানের এই অভিযোগের সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন বহু পাক নাগরিক।
মোদীকে তীব্র আক্রমণ মমতার, বললেন ‘এরপর হয়তো সংবিধান, দেশের নামও বদলে দেবে’