কমিশনের অভিযোগ, তামান্নার মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে যথেষ্ট গাফিলতি করছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত গাওয়াল শেখ সহ ১০ জন গ্রেফতার হলেও আরও ১৪ জন অভিযুক্ত অধরা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 July 2025 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালীগঞ্জ (Kaligunj) উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন বোমাবাজিতে মৃত্যু হয়েছিল তামান্না খাতুন (Tamanna Khatun) নামে এক নাবালিকার। অভিযোগ উঠেছিল, তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া হয়েছিল সেই বোমা। সেই ঘটনায় প্রায় দু’সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও সঠিক বিচার পাননি বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। এই আবহে সোমবার ঘটনাস্থলে যায় জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধি দল (NCW)। তাঁদেরও একই কথা জানিয়েছে তামান্নার পরিবার।
কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার দেখা করেন তামান্নার মা সাবিনা বিবির সঙ্গে। কথা বলেন দীর্ঘক্ষণ। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘‘ঘটনা ঘটেছে ২৩ জুন, আর আমরা এসে কথা বলছি জুলাইয়ের গোড়ায়। এখনও পর্যন্ত পরিবারের কেউ বিচার পেলেন না। যিনি ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছেন, তিনি একবারও এই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি।’’
কমিশনের অভিযোগ, তামান্নার মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে যথেষ্ট গাফিলতি করছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত গাওয়াল শেখ সহ ১০ জন গ্রেফতার হলেও আরও ১৪ জন অভিযুক্ত অধরা। একে ‘পুলিশি ব্যর্থতা’ বলেই চিহ্নিত করছেন তামান্নার মা ও বাবা।
এ দিন কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি অফিসেও যান অর্চনা মজুমদাররা। সেখানে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মাকওয়ানা মিতকুমার এবং ডিএসপি শিল্পী পাল। পুলিশ কমিশনকে আশ্বস্ত করেছে, দ্রুত বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করা হবে। কেউ ছাড় পাবে না বলেই জানিয়েছে তারা।
তবে অর্চনা মজুমদারের কটাক্ষ, ‘‘জাতীয় মহিলা কমিশনের হস্তক্ষেপ না থাকলে গ্রেফতারির সংখ্যাটা এতটুকুও পৌঁছত না। আমরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে ঘটনার পরেই যোগাযোগ করি। তখন থেকেই কিছুটা চাপ তৈরি হয়। তারপরই কিছু গ্রেফতার হয়। না হলে হয়তো সেটাও হত না।’’
এই ঘটনায় চার্জশিট কবে জমা পড়বে, ফরেন্সিক রিপোর্ট কোথায়—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মহিলা কমিশনের প্রতিনিধি দল। আপাতত তাঁরা বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাবেন কমিশনের দিল্লি সদর দফতরে। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘একজন নাবালিকা বিজয় মিছিলের বোমায় প্রাণ হারিয়েছে — এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ভয়ঙ্কর এক নজির।’’
ঘটনার পর থেকেই বিরোধীরা তীব্র ভাষায় শাসক তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছে। তবে এখনও বিধায়ক বা দলের কোনও শীর্ষ নেতা পরিবারের সঙ্গে দেখা না করায় প্রশ্ন উঠেছে মানবিকতার দিক থেকেও। তামান্নার মায়ের কথায়, ‘‘আমার মেয়ে কোনও রাজনীতি করত না। ওর কোনও দোষ ছিল না। তাহলে কেন এভাবে মরতে হল? বিচার চাই।''