৪ অফিসারকে সাসপেন্ড করল না নবান্ন। তবে ২ জনকে ভোটের কাজ থেকে তুলে নিয়ে চিঠি কমিশনকে।

নির্বাচন কমিশন ও নবান্ন
শেষ আপডেট: 11 August 2025 17:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের কাজে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন যে চার জন অফিসারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল, তা এখনই মানল না নবান্ন। তবে হ্যাঁ, আগের তুলনায় সুর কিছুটা নরম করে এবং কৌশলগত ভাবে ২ জনকে ভোটার তালিকা তৈরি বা নির্বাচনী কাজকর্ম থেকে তুলে নিল। সোমবার এই মর্মে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ।
কমিশন যে চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল তাঁরা হলেন, বারুইপুর পূর্ব (১৩৭) বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও (ERO) দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী ও সহকারী ইআরও (AERO) তথাগত মন্ডল। এবং ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও বিপ্লব সরকার ও এআইআরও সুদীপ্ত দাস। ওই চারজন আধিকারিক ছাড়াও ফর্ম-৬ প্রসেসিংয়ে যুক্ত ক্যাজুয়াল ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিত হালদারের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করার সুপারিশ করেছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ এদিন জানান, চারজন অফিসার ও একজন ডেটা এন্ট্রি কর্মীর বিরুদ্ধে এখনই কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি ঠিকই। তবে তাঁদের সাসপেনশন না করেও অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে নবান্ন।
মনোজ পন্থ চিঠি দিয়ে কমিশনকে জানিয়েছেন, জেলা বা ব্লক স্তরের অফিসারদের একাধিক দায়িত্ব থাকে—নির্বাচনী কাজ ছাড়াও সময় ধরে বহু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে অনেক সময়ে বিশ্বাসের ভিত্তিতে অধীনস্থ কর্মীদের কিছু দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
মুখ্য সচিবের যুক্তি, যেসব অফিসার এতদিন নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্তের আগে কড়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না, তা অতি কঠোর বলে মনে হতে পারে। এতে শুধু অভিযুক্ত নয়, সমগ্র প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অফিসার-কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়তে পারে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আপাতত তমলুক ব্লকের পিএএও ও ময়না আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার সুদীপ্ত দাস এবং বারুইপুর পূর্ব আসনের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারের নির্বাচনী দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর কমিশনকে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্য সচিব।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, নবান্নের এই চিঠিতে সরকারের কৌশল স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী আগেই বলেছিলেন, কোনও অফিসারকে সাসপেন্ড করা হবে না। কারণ, শাসক দলেরও ধারণা ছিল, চার জন অফিসারকে সাসপেন্ড করলেই অফিসার মহলে ক্ষোভ শুরু হয়ে যাবে। তাই আপাতত সরকার অনড় রইল। আবার নির্বাচন কমিশন যাতে এখনই আর কড়া পদক্ষেপ করতে না পারে সে জন্য অভ্যন্তরীণ তদন্ত হবে বলে একটা দীর্ঘমেয়াদি খুড়োর কলও ঝুলিয়ে রাখল। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, দুই ডব্লিউবিসিএস এক্সিকিউটিভ অফিসারের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপই করা হল না। বরং সরানো হল শুধু অধঃস্তন এক কর্মচারীকে। আর ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এমনিতেই কন্ট্রাকচুয়াল স্টাফ।
এখন দেখার কমিশন এই পদক্ষেপে তুষ্ট হয়। নাকি ফের চিঠি পাঠায় নবান্নকে।