
শেষ আপডেট: 3 June 2020 18:30
নাসার এই মঙ্গলযাত্রার রোভার কিউরিওসিটির থেকে অনেকটাই পরিণত। মিস কৌতূহলের থেকে আড়েবহরেও বেশি। নাসার জেট প্রপালসন ল্যাবরেটিতে (জেপিএল) যত্ন করে বানানো হয়েছে এই রোভার। নাসার ২০২০ মঙ্গল-অভিযানের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে আয়োজনও তাই বিরাট। জেপিএল জানাচ্ছে, দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টা, আলোচনা, পরিশ্রম, অধ্যবসায় সব মিলেমিশে গিয়েই এই রোভার তৈরি হয়েছে। তাই ভালবেসে তার নাম রাখা হয়েছে ‘পারসিভিয়ারেন্স’ । ঐতিহাসিক মার্কিন চন্দ্রাভিযানে অ্যাপোলো ১১ যেমন চাঁদের মাটি থেকে নুড়ি-পাথর কুড়িয়ে এনেছিল, পারসিভিয়ারেন্স রোভারও মঙ্গলের মাটি থেকে নুড়ি, পাথর, অজানা-অচেনা রহস্যময় জিনিসপত্র খুঁজে খুঁজে কোঁচড়ে ভরে নিয়ে আসবে। তেমনভাবেই তাকে সাজানো গোছানো হচ্ছে।
দ্বিতীয় রোবট দেখতে হবে উড়ন্ত চাকতির মতো। তাকে লাগানো হয়েছে রোভারের সামনের দিকের অংশের সঙ্গে। এর নাম ‘বিট ক্যারাউজেল’ (Bit Carousel) । প্রথম রোবটের থেকে নমুনা জোগাড় করাই এর কাজ। তাছাড়া ফাঁকা টিউবগুলো এগিয়ে তাড়াতাড়ি মাটি তুলতেও সাহায্য করবে এই রোবট।
তৃতীয় রোবটের আবার ১৬ ফুট লম্বা হাত আছে। নাসা বলছে এই রোবটের নাম ‘ টি-রেক্স আর্ম (T. rex arm) ।’ এটি থাকছে রোভারের পেটের কাছে। প্রথম রোবট যদি কাজে ইস্তফা দেয়, তাহলে এই রোবটের ডাক পড়বে। মাটি তোলা, নমুনা খুঁজে বার করা, টিউবে তোলা, সব কাজেই পটু এই টি-রেক্স আর্ম।
ওয়াশিংটনে নাসার সায়েন্স মিশন ডিরেক্টরেটের শীর্ষ অধিকর্তা ডঃ থোমাস জুরবাকেন বলেছেন, “ঐতিহাসিক মঙ্গলযাত্রার জন্য প্রস্তুত নাসা। আমরা চাই এই অভিযানে গোটা পৃথিবী সামিল হোক।
১৯৭২ সালে মঙ্গলযাত্রার সূচনা করেছিল নাসা-র মেরিনার-৯ অরবিটার। মঙ্গলের অজস্র ছবি তুলে এক অচেনা জগতের দ্বার উন্মোচিত করেছিল। তার পর থেকেই মঙ্গল-অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়ে গোটা বিশ্ব। এখনও অবধি তিন রকমের মঙ্গল-অভিযান হয়েছে। এক, ফ্লাই বাই (মঙ্গলের ‘পাশ’ দিয়ে চলে যাওয়া); দুই, অরবিটার (মঙ্গলের কক্ষপথে ঘোরা); তিন, ল্যান্ডার/ রোভার (মঙ্গলে অবতরণ ও সফর করা)।
নাসার মিস কিউরিওসিটির পরে মঙ্গলের মাটি থেকে নমুনা তুলে আনতে পাঠানো হয়েছিল ‘ইনসাইট’ ল্যান্ডার মহাকাশযানকে। লাল গ্রহ-এর অন্দরে তরল জলের ধারা এখনও গোপনে বয়ে চলেছে কি না, সেটা দেখার দায়িত্ব ছিল এই ল্যান্ডারের। মঙ্গলের কোথায় ঘাপটি মেরে রয়েছে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, কোথায় হচ্ছে অগ্ন্যুৎপাত, কখন কেঁপে উঠছে মঙ্গলের মাটি—সেই সব বুঝেশুনে পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশনে খবর পাঠানোই কাজ ইনসাইটের। নাসার পাঠানো রোভার ‘মিস কিউরিওসিটি’ এখন যেখানে রয়েছে, তার ধারেকাছেই মঙ্গলের বিষূবরেখায় ‘এলিসিয়াম প্লানিশিয়া’ এলাকায় রয়েছে ইনসাইট। এর সিস যন্ত্রের ডেটা দেখিয়েছে, গত বছর একই দিনে পর পর দু’বার সিসমিক সিগন্যাল ধরা পড়েছিল, যার অর্থ ধারাবাহিক কম্পন চলেছিল মঙ্গলের মাটিতে। ইনসাইটের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ব্রুস বেনার্ড বলেছেন, লাল গ্রহ হল ভূমিকম্প প্রবণ বা যাকে বলা যায় ‘সিসমিক্যালি অ্যাকটিভ।’
এবারের মিশনে পারসিভিয়ারেন্স রোভারের কাজ হবে মঙ্গলের মাটিতে প্রাণের চিহ্ন খুঁজে বার করা। মঙ্গলের আবহাওয়া, সেখানে মাটির প্রকৃতি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা। ইসরোর মঙ্গলযান ‘মম’ দেখিয়েছিল, মঙ্গলে দিন-রাত আছে, ঋতু পরিবর্তন আছে, আছে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু, খুব উঁচু পাহাড় আছে, বিরাট আগ্নেয়গিরি আছে, বিশাল নদীখাতও আছে, যা একদা সেখানে জল থাকার প্রমাণ দেয়। পারসিভিয়ারেন্স রোভার দেখাবে মঙ্গলের মাটির গঠন, চরিত্র, আবহাওয়ার প্রকৃতি, বাতাসে মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব, বায়ুমণ্ডলে অ-তরিদাহত কণার পরিমাণ।