Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

কুড়িতেই মঙ্গলে পাড়ি, নাসার ঐতিহাসিক মঙ্গলযাত্রা হবে জুলাইতে, সেজেগুজে লাল গ্রহে যাবে রোভার 'পারসিভিয়ারেন্স'

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১২ সালে মঙ্গলের মাটিতে পা। রহস্যময় লাল গ্রহের প্রহেলিকা ফাঁস করতে এক কৌতুহলী চোখকে পাঠিয়েছিল নাসা। মানুষের প্রতিনিধি হয়ে সে মঙ্গলেই কাটিয়ে দিয়েছে আটটা বছর। ‘মিস কিউরিওসিটি’ যার বাংলা করে দাঁড়ায় ‘মিস কৌতুহল’ রোভার এখনও দি

কুড়িতেই মঙ্গলে পাড়ি, নাসার ঐতিহাসিক মঙ্গলযাত্রা হবে জুলাইতে, সেজেগুজে লাল গ্রহে যাবে রোভার 'পারসিভিয়ারেন্স'

শেষ আপডেট: 3 June 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১২ সালে মঙ্গলের মাটিতে পা। রহস্যময় লাল গ্রহের প্রহেলিকা ফাঁস করতে এক কৌতুহলী চোখকে পাঠিয়েছিল নাসা। মানুষের প্রতিনিধি হয়ে সে মঙ্গলেই কাটিয়ে দিয়েছে আটটা বছর। ‘মিস কিউরিওসিটি’ যার বাংলা করে দাঁড়ায় ‘মিস কৌতুহল’ রোভার এখনও দিব্যি চষে বেড়াচ্ছে মঙ্গলের মাটিতে। সময় সময় মাটি খুঁড়ছে, নীচু উপত্যকা, উঁচু ঢাল, আগ্নেয়গিরির ফুঁসে ওঠা, পাথুড়ে মাটির কম্পন—প্রতি মুহূর্তের খবর পাঠাচ্ছে। তবে নাসা বলেছে, এক কৌতূহলেই এতদিনের কৌতূহল মিটবে না। আরও একটা বড়সড় অভিযান চাই, মঙ্গল-অভিযান। কুড়িতেই হল সেই সময়। বিশ্ব কাঁপিয়ে ফের একবার মঙ্গলে পাড়ি দিতে চলেছে নাসা। নাসার এই মঙ্গলযাত্রার রোভার কিউরিওসিটির থেকে অনেকটাই পরিণত। মিস কৌতূহলের থেকে আড়েবহরেও বেশি। নাসার জেট প্রপালসন ল্যাবরেটিতে (জেপিএল) যত্ন করে বানানো হয়েছে এই রোভার। নাসার ২০২০ মঙ্গল-অভিযানের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে আয়োজনও তাই বিরাট। জেপিএল জানাচ্ছে, দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টা, আলোচনা, পরিশ্রম, অধ্যবসায় সব মিলেমিশে গিয়েই এই রোভার তৈরি হয়েছে। তাই ভালবেসে তার নাম রাখা হয়েছে ‘পারসিভিয়ারেন্স’ । ঐতিহাসিক মার্কিন চন্দ্রাভিযানে অ্যাপোলো ১১ যেমন চাঁদের মাটি থেকে নুড়ি-পাথর কুড়িয়ে এনেছিল, পারসিভিয়ারেন্স রোভারও মঙ্গলের মাটি থেকে নুড়ি, পাথর, অজানা-অচেনা রহস্যময় জিনিসপত্র খুঁজে খুঁজে কোঁচড়ে ভরে নিয়ে আসবে। তেমনভাবেই তাকে সাজানো গোছানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মঙ্গলে ঋতু বদলায়, তুষার ঝড়ে ঢাকে গিরিখাত, ফুঁসে ওঠে আগ্নেয়গিরি, আর কী কী দেখেছে মঙ্গলযান

https://twitter.com/NASA/status/1268272746619908098 কুড়ি সালের এই মঙ্গল-অভিযানের ঘোষণা হয়েছিল সেই ২০১২ সালের ডিসেম্বরেই। সান ফ্রান্সিসকোর আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নে। মিস কিউরিওসিটির মঙ্গলের পাড়ি দেওয়ার সময়। তার পর থেকেই দ্বিতীয় মঙ্গলযাত্রার প্রস্তুতি হইহই করে চলছে। জুলাই মাসের ১৭ তারিখে ভারতীয় সময় সকাল সোয়া ৯টা নাগাদ ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আটলাস ভি-৫৪১ রকেটে চেপে মঙ্গলের দিকে হুশ করে উড়ে যাবে পারসিভিয়ারেন্স রোভার। মঙ্গলের মাটিতে নামতে তার এক বছর সময় লাগবে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলের মাটিতে পা দেবে পারসিভিয়ারেন্স। আটলাস রকেট সিরিজের পঞ্চম বৃহত্তম রকেট এই আটলাস ভি-৫৪১। এই রকেট বানিয়েছে লকহিড মার্টিন। ঐতিহাসিক মঙ্গলযাত্রার জন্য এই রকেটকেই বেছে নিয়েছে নাসা।

আরও পড়ুন: মঙ্গলের আকাশে শরতের মেঘ, ঝিরিঝিরি বরফে শীত নেমেছে দক্ষিণে, মুগ্ধ হয়ে দেখল ‘মার্স এক্সপ্রেস’

https://www.youtube.com/watch?v=MFyv8mtRPCA মে মাসেই রোভারের সাজসজ্জায় অনেক বদল এনেছে জেপিএল। মঙ্গলের মাটি খুঁড়ে নমুনা জোগাড় করে আনার জন্য তার শরীরে ফিট করা হয়েছে ৪৩টি টিউব। ওজনে ১,০২৫ কিলোগ্রাম। নাসার এই পারসিভিয়ারেন্স মিশনের দায়িত্বে থাকা জেপিএলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যাডাম স্টেলৎজেনার বলেছেন, “দু’জন নভশ্চর যা কাজ করবে তার থেকে বেশি কাজ করবে রোবট। এই মঙ্গলযাত্রায় প্রথম লাল গ্রহের মাটি থেকে নমুনা কুড়িয়ে এনে দেবে তিনটি রোবট।” প্রথম রোবট জোড়া থাকবে রোভারের ‘স্যাম্পেল ক্যাচিং সিস্টেম’-এর সঙ্গে। মঙ্গলের মাটি খামচে নমুনা টিউবে ভরার জন্য রোভারের সাত ফুট লম্বা দুটি রোবোটিক হাত থাকবে। নুড়ি-পাথর, মাটির ধুলো সাবধানে তুলে আনতেও থাকবে বিশেষ যান্ত্রিক ব্যবস্থা। দ্বিতীয় রোবট দেখতে হবে উড়ন্ত চাকতির মতো। তাকে লাগানো হয়েছে রোভারের সামনের দিকের অংশের সঙ্গে। এর নাম বিট ক্যারাউজেল (Bit Carousel) । প্রথম রোবটের থেকে নমুনা জোগাড় করাই এর কাজ। তাছাড়া ফাঁকা টিউবগুলো এগিয়ে তাড়াতাড়ি মাটি তুলতেও সাহায্য করবে এই রোবট। তৃতীয় রোবটের আবার ১৬ ফুট লম্বা হাত আছে। নাসা বলছে এই রোবটের নাম টি-রেক্স আর্ম (T. rex arm) ।’ এটি থাকছে রোভারের পেটের কাছে। প্রথম রোবট যদি কাজে ইস্তফা দেয়, তাহলে এই রোবটের ডাক পড়বে। মাটি তোলা, নমুনা খুঁজে বার করা, টিউবে তোলা, সব কাজেই পটু এই টি-রেক্স আর্ম। ওয়াশিংটনে নাসার সায়েন্স মিশন ডিরেক্টরেটের শীর্ষ অধিকর্তা ডঃ থোমাস জুরবাকেন বলেছেন, “ঐতিহাসিক মঙ্গলযাত্রার জন্য প্রস্তুত নাসা। আমরা চাই এই অভিযানে গোটা পৃথিবী সামিল হোক। ১৯৭২ সালে মঙ্গলযাত্রার সূচনা করেছিল নাসা-র মেরিনার-৯ অরবিটার। মঙ্গলের অজস্র ছবি তুলে এক অচেনা জগতের দ্বার উন্মোচিত করেছিল। তার পর থেকেই মঙ্গল-অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়ে গোটা বিশ্ব। এখনও অবধি তিন রকমের মঙ্গল-অভিযান হয়েছে। এক, ফ্লাই বাই (মঙ্গলের ‘পাশ’ দিয়ে চলে যাওয়া); দুই, অরবিটার (মঙ্গলের কক্ষপথে ঘোরা); তিন, ল্যান্ডার/ রোভার (মঙ্গলে অবতরণ ও সফর করা)। নাসার মিস কিউরিওসিটির পরে মঙ্গলের মাটি থেকে নমুনা তুলে আনতে পাঠানো হয়েছিল ইনসাইট ল্যান্ডার মহাকাশযানকে। লাল গ্রহ-এর অন্দরে তরল জলের ধারা এখনও গোপনে বয়ে চলেছে কি না, সেটা দেখার দায়িত্ব ছিল এই ল্যান্ডারের। মঙ্গলের কোথায় ঘাপটি মেরে রয়েছে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, কোথায় হচ্ছে অগ্ন্যুৎপাত, কখন কেঁপে উঠছে মঙ্গলের মাটি—সেই সব বুঝেশুনে পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশনে খবর পাঠানোই কাজ ইনসাইটের। নাসার পাঠানো রোভার ‘মিস কিউরিওসিটি’ এখন যেখানে রয়েছে, তার ধারেকাছেই মঙ্গলের বিষূবরেখায় এলিসিয়াম প্লানিশিয়া এলাকায় রয়েছে ইনসাইট। এর সিস যন্ত্রের ডেটা দেখিয়েছে, গত বছর একই দিনে পর পর দু’বার সিসমিক সিগন্যাল ধরা পড়েছিল, যার অর্থ ধারাবাহিক কম্পন চলেছিল মঙ্গলের মাটিতে। ইনসাইটের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ব্রুস বেনার্ড বলেছেন, লাল গ্রহ হল ভূমিকম্প প্রবণ বা যাকে বলা যায় সিসমিক্যালি অ্যাকটিভ। এবারের মিশনে পারসিভিয়ারেন্স রোভারের কাজ হবে মঙ্গলের মাটিতে প্রাণের চিহ্ন খুঁজে বার করা।  মঙ্গলের আবহাওয়া, সেখানে মাটির প্রকৃতি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা। ইসরোর মঙ্গলযান ‘মম’  দেখিয়েছিল, মঙ্গলে দিন-রাত আছে, ঋতু পরিবর্তন আছে, আছে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু, খুব উঁচু পাহাড় আছে, বিরাট আগ্নেয়গিরি আছে, বিশাল নদীখাতও আছে, যা একদা সেখানে জল থাকার প্রমাণ দেয়। পারসিভিয়ারেন্স রোভার দেখাবে মঙ্গলের মাটির গঠন, চরিত্র, আবহাওয়ার প্রকৃতি, বাতাসে মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব, বায়ুমণ্ডলে অ-তরিদাহত কণার পরিমাণ।

```