
শেষ আপডেট: 12 July 2020 18:30
নাসার নিওওয়াইস স্পেস টেলিস্কোপ[/caption]
ইনফ্রারেড সার্ভে এক্সপ্লোরারে এদের রঙ দেখিয়েছে টকটকে লালচে-বাদামি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যতই কাছে যাওয়া যাবে মানুষের চোখে এদের নানারকম রঙ ধরা পড়বে। হয় ম্যাজেন্টা বা লালচে-কমলা। বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে এরা ভরে ৭৫ গুণ বেশি। বয়স কম করেও ১০০০ কোটি বছর। লালচে-বাদামি রঙা শরীর তৈরি হয়েছে গ্যাস দিয়ে। তারার শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেসব গ্রহ বা মহাজাগতিক বস্তু তৈরি হয় তাদের দেহে যে পরিমাণ লোহা থাকে, এই দুই বামনের শরীরে তেমনটা নেই। লোহার পরিমাণ খুবই কম। তাই তাদের জন্মরহস্য এখনও আঁধারেই রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেদিন এই দুই বামনের জীবনবৃত্তান্ত বার করে ফেলা যাবে, সেইদিনই অন্যান্য ভিন গ্রহদের জন্মরহস্যও সামনে চলে আসবে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা কুইপার বেল্টের ও পারেই রয়েছে এই দুই ‘ব্রাউন ডোয়ার্ফ’। পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কোটি কিলোমিটার দূরে ছোট ছোট পাথর আর বরফের টুকরোয় ভরা একটি বলয় রয়েছে। এই বলয়টি প্রায় ৩০০ কোটি কিলোমিটার বিস্তৃত। এখানে গ্যাস ও ধুলোর ঘনত্ব কম। এই জায়গাটিকে বলে ‘কুইপার বেল্ট’ । বিজ্ঞানী জেরার্ড কুইপারের নাম অনুসারে। এই কুইপার বেল্টের সীমানার মধ্যেই রয়েছে সৌরমণ্ডলের নবম গ্রহ প্লুটো, যাকে বিজ্ঞানীরা এখন গ্রহ বলতে রাজি নন। বিজ্ঞানীরা বলেন, এই কুইপার বেল্ট ছাড়িয়েও গ্রহ বা বামন গ্রহ বা গ্রহাণুরা বহাল তবিয়তে রয়েছে।
মহাকাশবিজ্ঞানীরা অনেক আগেই কুইপার বেল্টের ও পারে বাদামি বামন গ্রহের মতো মহাজাগতিক বস্তুর উপস্থিতি আঁচ করেছিলেন। এই বাদামি বামনরা তারাদের মতো জন্মায়। যেভাবে সূর্যের জন্ম হয়েছিল অনেকটা সেইভাবেই। কিন্তু ভর কম হওয়ায় এদের শরীরে সেই জ্বালাময়ী শক্তি থাকে না। গনগনে তেজও থাকে না। ব্রাউন ডোয়ার্ফরা হয় তুলনায় ঠাণ্ডা, শান্ত, অনুজ্জ্বল। এই বাদামি বামনদের খোঁজ পেতেই ‘ওয়াইড-ফিল্ড ইনফ্রারেড সার্ভে এক্সপ্লোরার’ বা ‘ওয়াইস’ নামের স্পেস টেলিস্কোপকে কাজে লাগিয়েছে নাসা।
অ্যারিজ়োনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক অ্যাডাম স্কেনেইডার প্রথম এই দুই বাদামি বুড়ো বামনের খোঁজ পান সেই ২০১৬ সালে। তখন একটির নাম দিয়েছিলেন ‘ওয়াইস ১৮১০’ (WISE 1810) । কিন্তু তখন তারা গ্রহাণু, মহাজাগতিক বস্তুদের ভিড়ে মিশে ছিল। তাই সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। অনুমানের উপর ভিত্তি করেই নামকরণ করা হয়। পরে ওয়াইসভিউ নামক যন্ত্রের সাহায্যে ভাল করে খুঁটিয়ে দেখে এদের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হন বিজ্ঞানী ড্যান কেসেলডেন। দ্বিতীয় বামনের নাম দেওয়া হয় ‘ওয়াইস ০৪১৪’ (WISE 0414) । বিজ্ঞানীরা বলছেন এমন ১৬০০ বাদামি বামন গ্রহ ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের কেউ প্রবীণ, কেউ হিমশীতল, আবার কেউ পাগলাটে, খামখেয়ালী। চেনাপরিচিত গ্রহ-তারাদের দলে ঢুকতে চায় না। তাই এদের খোঁজ পাওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ। তারই একটা ধাপ পেরিয়ে গেল মহাকাশবিজ্ঞানের গবেষণা। পরের ধাপগুলোতে আরও চমক অপেক্ষা করছে বলেই জানিয়েছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।