
শেষ আপডেট: 11 August 2023 05:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ (Naktala Udayan Sangha) এবং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-- এই দু'টি যেন একসঙ্গেই উচ্চারণ করার বিষয় ছিল, ২০২১ সালের দুর্গাপুজো পর্যন্ত। বলা যায়, নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামেই লোকে চিনত। গত বছর জুলাই মাসে মন্ত্রী গ্রেফতার হন দুর্নীতি মামলায়। ডুবতে বসে তাঁর রাজ্যপাট। কিন্তু এবার ফের অভিভাবক পেয়েছে নাকতলা। এই পুজোর দায়িত্বে এবার রাজ্যের আর এক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
গতবছরেই নাকতলা উদয়ন সংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে পুজোর জৌলুসে কোনও ভাটা পড়বে না। সত্যিই তেমন কিছু হয়ওনি। বেশ জাঁকজমক করেই দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছিলেন তারা। আর এবার তাঁকে একেবারেই ছেঁটে ফেলল পুজো কমিটি। গত মাসে যখন ধুমধাম করে নাকতলা উদয়ন সংঘের খুঁটিপুজো হয়, সেখানেই পার্থর বদলে ক্লাবের মুখ্য উপদেষ্টা করা হয় টালিগঞ্জ কেন্দ্রের বিধায়ক তথা মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে।

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে এখন জেলবন্দি শুধু তাই নয়, তাঁর ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা দূরদূরান্তেও দেখা যাচ্ছে না। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরটের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেকে 'নির্দোষ' প্রমাণ করলে তবেই দলে ফিরতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। তবে এই 'নির্দোষ' প্রমাণের আইনগত প্রক্রিয়ায় পার্থবাবুর পাশে নেই দল।
এই পরিস্থিতিতে পার্থবাবুর উদয়ন সঙ্ঘর পুজোও কার্যত বিশবাঁও জলে পড়েছিল। রাজনৈতিক মহলের খবর, এই সুযোগেই শহরের এই বড় পুজোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল বিজেপি। কিন্তু গেরুয়া শিবিরকে পাল্টা চাপে রাখতে পদক্ষেপ করল তৃণমূল নিজেই। পার্থকে সাইড লাইনের বাইরে পাঠিয়ে একেবারে নাকতলার মাঠে ঢুকে পড়লেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
শহরের বহু বড় বড় পুজোর উদ্যোক্তা রাজনৈতিক নেতারা। রাজনীতির ময়দানে এঁদের মধ্যে কেউ কেউ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়লেও পুজোর সময় একে অপরকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে চান না। একসময় সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের একডালিয়া এভারগ্রিনের পুজো দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়ত গড়িয়াহাটে। আবার প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ঘোষের পুজো বলে এখনও পরিচিত মধ্য কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের দুর্গাপুজো। আজ এঁদের দু’জনের কেউই বেঁচে নেই। তবে এখনও তাঁদের নামেই পুজোর আয়োজন করেন উদ্যোক্তারা।
নাকতলা উদয়ন পুজো কমিটির সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস অবশ্য পুজোর দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, 'এলাকার বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, তিনি আমাদেরই লোক, তাই তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি সুরুচি সঙ্ঘের পুজো আয়োজন করেন প্রতিবারই, কিন্তু প্রতিবছরই নাকতলার পুজোতেও আসেনই। তাই এবারও আসবেন।'
পুজো আসতে আর ১০০ দিনও বাকি নেই। শহরের সব বড় ক্লাব প্রস্তুতি তুঙ্গে। নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘও এ শহরের বিগ বাজেটের ক্লাব বলেই পরিচিত। কিন্তু এবার কী হবে তাদের পুজোয়? বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পুজো কমিটির পেজের পক্ষ থেকে লেখা হয়, ‘আমাদের পুজোয় আমরা। দূষণমুক্ত ভবিষ্যতের লক্ষ্যে নাকতলার উদয়নে থাকব আমরা এলাকাবাসীরা। ২৭ অগস্ট আরম্ভ আমাদের আগমনীর প্রচার।’
বাংলায় স্কুলগুলোর র্যাঙ্কিং চালু করতে চাইছে নবান্ন, কোন স্কুল কত নম্বরে সবাই কি জানতে পারবেন!