Nagrakata: এনডিআরএফ ও প্রশাসনের তরফে চলছে তৎপর উদ্ধার অভিযান। বাগানের ফ্যাক্টরিতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে অন্তত ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে।

নাগরাকাটায় আক্রান্ত খগেমন মুর্মু ও শঙ্কর ঘোষ।
শেষ আপডেট: 6 October 2025 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দুপুরে নাগরাকাটায় আক্রান্ত হন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh) এবং মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু (Khagen Murmu)। কৌতূহলের বিষয় হল, গত দুদিনের বৃষ্টিতে নাগরাকাটায় কী ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছিল যে শঙ্কররা সেখানে পরিদর্শনে যাচ্ছিলেন!
প্রকৃতির হঠাৎ তাণ্ডবে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স কার্যত বিধ্বস্ত। প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি জলোচ্ছ্বাসে রাতারাতি ডুবে গেছে নাগরাকাটার বিস্তীর্ণ এলাকা। মৃত অন্তত ৫ জন, তাঁদের মধ্যে এক শিশু। আরও কয়েকজনের কোনও খোঁজ নেই। ভেসে গিয়েছে গ্রামীণ সড়ক ও সেতু, জলমগ্ন হয়ে পড়েছে শতাধিক বাড়িঘর।
শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে নাগরাকাটার চা-বলয়ের এলাকা। বামনডাঙা চা বাগানের মডেল ভিলেজ—যেখানে প্রায় ৫০০ পরিবার বাস করেন—সেখানে কোমর সমান জল জমে যায়। নিকাশি ব্যবস্থার অভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রামটি রূপ ডুবে যায় জলস্রোতে। আতঙ্কে অনেকেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন, কিন্তু সবাই যে ফিরতে পেরেছেন তা নয়।
বৃষ্টির তোড়ে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫জন গ্রামবাসী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৬৫ বছরের শানচারোয়া সাউ, ৩০ বছরের কস্তু লোহার, তাঁর স্ত্রী ২৫ বছরের রাধিকা লোহার, ২৫ বছরের শিল্পা মুন্ডা এবং আলিশা নাগাসিয়া নামে এক মহিলার মাত্র দু'মাসের শিশুকন্যা। মায়ের কোল থেকে জলে পড়ে যায় ওই শিশু। মৃতদের সকলেই বামনডাঙা চা বাগানের বাসিন্দা। এছাড়াও আরও কয়েকজনের সন্ধান এখনও মেলেনি।
প্রবল স্রোতে ভেঙে গিয়েছে ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের একটি সেতুর অংশ, সঙ্গে ভেসে গেছে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে তৈরি গ্রামীণ রাস্তা ও সেতুও। বহু জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় গোটা এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে। রবিবার রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।
এনডিআরএফ ও প্রশাসনের তরফে চলছে তৎপর উদ্ধার অভিযান। বাগানের ফ্যাক্টরিতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে অন্তত ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সঞ্জয় কুজুর বলেন, “এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছি আমরা। দ্রুত সহায়তার জন্য প্রশাসনের উচ্চস্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
অনেকেই বলছেন, নাগরাকাটার এই বিপর্যয় মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৬৮ সালের ৪ অক্টোবরের সেই ভয়াবহ তিস্তা-বন্যার দিনটিকে, যখন জলপাইগুড়ি জুড়ে নেমেছিল প্রলয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য লক্ষণ কাওয়ারের কথায়, “গ্রামের প্রতিটি কোণে এখন শোক আর ধ্বংসের ছবি।”
প্রকৃতির এই নির্মম রোষে তছনছ নাগরাকাটা—চা বাগানের শ্রমিক মহল্লা থেকে শুরু করে ফসলের মাঠ, সবই আজ জলমগ্ন। আর প্রশাসনের একটাই লক্ষ্য—যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানো এই ডুয়ার্সের সবুজভূমিকে।