
শেষ আপডেট: 14 September 2024 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জ্বর হওয়ায় সোমবার ছেলেকে ভর্তি করেছিলেন আরজি কর হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালেই মারা যান নদিয়ার রানাঘাটের বাসিন্দা নন্দ বিশ্বাস (২৪)। বিনা চিকিৎসাতেই ওই যুবকের মৃত্য়ু হয়েছে বলে অভিযোগ তুুলল পরিবার।
নন্দর বাবা জ্যোতিষ বিশ্বাসের অভিযোগ,তাঁর ছেলের সঙ্কটজনক অবস্থা দেখেও এগিয়ে আসেননি কেউ। বারবার নার্সদের ডাকা হলেও সাড়া দেননি তাঁরা। মৃত্যুর আগে ন্যূনতম চিকিৎসাও পাননি। এখন ছেলের মৃত্যুর বিচার চাইছেন রানাঘাটের এই বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, সোমবার ভর্তি হওয়ার পর কিছুটা দেখাশোনা হলেও মঙ্গলবার থেকে একদমই বিনা চিকিৎসায় পড়েছিলেন তাঁর ছেলে। স্যালাইন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি তাঁকে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।
জ্যোতিষবাবু বলেন,‘‘প্রেসক্রিপশনে স্যালাইন দেওয়ার কথা লেখা ছিল। ভর্তির পর দুয়েকবার স্যালাইন দেওয়া হয়। মঙ্গলবার থেকেই বন্ধ হয়ে যায় স্যালাইনও। ডাক্তার-নার্স কেউ এসে দেখেননি। ওর অবস্থা খারাপ হচ্ছে বুঝতে পেরে বারবার নার্সদের কাছে যাচ্ছিলাম। কিন্তু কেউ এসে একবারও দেখল না আমার ছেলেটাকে।" তিনি জানান, সোমবার ভর্তি হওয়ার পর মঙ্গলবার কিছুটা সুস্থ বোধ করছিল ও। কিন্তু একদম দেখভাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছেলেটাকে হারালেন তাঁরা।
ছেলেটির পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার থেকে নন্দর প্রস্রাব এবং পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়। মুখ থেকে গ্যাঁজলা বেরোতে শুরু করে। সেই সময়েও ডাক্তারের খোঁজে ছোটাছুটি করছিলেন তাঁরা। কিন্তু কোনও ডাক্তার ছিলেন না। যখন তাঁরা এলেন তত ক্ষণে সবশেষ। তাঁরা জানান, অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় ছেলেকে বড় নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল হাসপাতাল। কিন্তু টাকা ছাড়া সেখানে কে তাদের রোগীকে ভর্তি নেবে!
গত ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের চারতলার সেমিনার রুম থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ছাত্রীর অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হয়। তারপরেই প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারেরা। রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তাররা এই প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। ১ মাসের বেশি সময় ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন তাঁরা। জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতিতে এখনও পর্যন্ত সাত লক্ষ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে সরকারের দাবি।