
অর্চনা এবং নীলিমা দাস
শেষ আপডেট: 25 November 2024 15:02
ময়দা মাখা দিয়েই দিন শুরু হয় নীলিমা দাসের। তাঁর বোন অর্চনাও সঙ্গে থাকেন। দুই বোনে মিলেই বছরের পর বছর চালাচ্ছেন সিঙাড়ার দোকান। কর্মচারি কেউ নেই। বয়সকে হার মানিয়েই দুজনে মিলে বানিয়ে ফেলেন সিঙাড়া-ফুলুরি-মিষ্টি। মাত্র এক টাকায় সিঙাড়া পাওয়া যায় তাঁদের দোকানে। তার টানেই দোকানে উপচে পড়ে ভিড়। হাটের দিন তো কথাই নেই, অন্য সাধারণ দিনেও দোকানে দেখা যায় মানুষের ঢল।
রোজ সকাল থেকে শুরু হয় এক টাকার সিঙাড়া ভাজার প্রস্তুতি। নীলিমা আর অর্চনার দোকানে এখনও সিঙাড়া আর ফুলুরি মেলে এক টাকায়। তাঁরা জানিয়েছেন, শান্তিপুরের পীরের হাটে তাঁদের এই দোকান ঠাকুরদার আমলের। তারপর চালাতেন বাবা। বাবার পরে ভাই দোকানের হাল ধরেছিলেন। তাঁর মৃত্যু হওয়ায় এখন দোকান সামলাচ্ছেন দুই বোন মিলে।
শুধু সিঙাড়া আর তেলেভাজাই নয়, নানা ধরণের মিষ্টিও প্রত্যেকদিন তৈরি করেন দুই বোন। ক্রেতারাও জানান, কম দামে ভাল খাবার পেতে এই দোকানই তাদের বরাবরের ভরসা। একসময়ে জৌলুস ছিল এই দোকানের। এখন আর নেই। তবে নীলিমা আর অর্চনার নামেই এখনও রমরম করে চলছে এই দোকান।
তবে এমন চড়া বাজারেও নীলিমাদের এক টাকায় সিঙাড়া বিক্রি করা নিয়ে অনেকের অনেক কৌতূহল। আবার দোকানে কোনও কর্মচারিও রাখেননি তাঁরা।
এই বিষয়ে দুই বোনের মত, কর্মচারি রাখলে বেতন দিতে হবে। সেই অর্থ তাঁদের নেই। খরচ পোষাতে পারবেন না। কিন্তু তার জন্য জিনিসের দাম বাড়াতে চান না তাঁরা। অগ্নিমূল্য বাজারে সংসার চালাতে হিমশিম খেলেও হাসি মুখেই এক টাকার তেলে ভাজা বিক্রি করে যেতে চান দুই বোন।