
জগদ্ধাত্রী পুজো
শেষ আপডেট: 9 November 2024 15:00
দুর্গাপুজো, কালিপুজো, দীপাবলীর পর বাংলার মানুষ মেতে ওঠেন জগদ্ধাত্রীর আরাধনায়। কিন্তু জানেন কি কোথায় জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা হয়েছিল? জানা যায়, নদীয়ার শান্তিপুরের ব্রহ্ম শাসন এলাকায় প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজো হয়। আর এই পুজো ঘিরে রয়েছে নানা জনশ্রুতি।
শোনা যায়, বাংলার তৎকালীন নবাব মীরজাফরের জামাই মীরকাশিমের সঙ্গে মনোমালিন্য হয় রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের। ১৭৬৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে এক লক্ষ টাকা কর ধার্য করা হয়েছিল। সে সময়ে রাজা কর দিতে না পারায় বিহারের মুঙ্গের জেলে তাঁকে বন্দি করে রাখা হয়। বন্দিদশা কাটিয়ে যখন তিনি জলপথে কৃষ্ণনগরের দিকে আসছিলেন সেদিন ছিল বিজয়া দশমী। বন্দি থাকায় সেবার দুর্গাপুজো করা হয়নি তাঁর। তাই মন খারাপে মুষড়ে পড়েন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। সেদিন রাতেই তিনি স্বপ্ন দেখেন যে কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দুর্গা মন্ত্রে সপ্তমী অষ্টমী নবমী পুজো করলেই দুর্গাপুজোর ফল লাভ হবে। সেই দেবীর নাম হবে জগদ্ধাত্রী। শোনা যায় তখন থেকেই জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন শুরু হয়েছিল।
যদিও এ ঘটনা কতটা সত্যি তা জানতে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন আছে। তবে জানা গেছে রাজ পরিবারের সমস্ত রকম পুজো থেকে শুরু করে সমস্ত রকম কর্মপরিচালনা করতেন শান্তিপুরের হরিপুর অঞ্চলের ব্রহ্ম শাসনের একশো আটঘর ব্রাহ্মণ। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বংশধর রাজা গিরীশচন্দ্রের সময়ে চন্দ্রচূড় তর্ক চুড়ামণি নামে এক তন্ত্রসাধক রাজার আদেশে জগদ্ধাত্রীর পুজোবিধি তৈরি করেছিলেন।
ব্রহ্ম শাসনেই প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজো হওয়ার পর ক্রমশ রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই এই পুজোর প্রচলন হয়। তবে রাজ্যর অন্যান্য জায়গায় চার দিন পুজো হলেও এখানে শুধুমাত্র নবমী তিথিতেই পুজো করা হয়ে থাকে। প্রাচীন এই রীতির পুজোয় ভিড় করেন বহু মানুষ।