সূত্র বলছে, সঞ্জু ও আরসাদ প্রায় ১৫ বছর আগে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অসমে গিয়েছিলেন।

শেষ আপডেট: 10 October 2025 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআরসি (NRC) আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না এ রাজ্যের মানুষের। নদিয়া জেলায় সম্প্রতি নতুন করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে অসম (Assam) থেকে আসা একটি NRC (ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস) নোটিস।
কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকের ধুবুলিয়া থানার সোনাডাঙা মাঝের পাড়ার সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখের পরিবার নোটিসটি হাতে পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ৩ অক্টোবর দু'জনেই একটি চিঠি পান, যা সম্পূর্ণ অসমিয়া ভাষায় লেখা ছিল। চিঠির বিষয়বস্তু বুঝতে না পারায় তাঁরা তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে তা দেখান। পরে জানা যায়, এটি অসম রাজ্য থেকে পাঠানো নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত নোটিস।
সূত্র বলছে, সঞ্জু ও আরসাদ প্রায় ১৫ বছর আগে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অসমে গিয়েছিলেন। সঞ্জু সেখানে এক মাস এবং আরসাদ মাত্র ১৫ দিন কাজ করার পর নদিয়ায় ফিরে আসেন। এরপর আর কখনও অসমে যাননি। এত বছর পর হঠাৎ তাঁদের নামে নোটিস আসায় দুই পরিবার হতবাক। দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।
নোটিসের বিস্তারিত বিষয়বস্তু স্পষ্ট না হলেও, স্থানীয়দের মাধ্যমে অনুমান করা হচ্ছে এটি নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কেবল কিছুদিনের জন্য অসমে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম NRC তালিকায় কীভাবে উঠল? কীভাবে তাঁদের নাম ওই রাজ্যের ভোটার বা বসবাসকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হল? এই প্রশ্ন ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ এই ভয়ে কাঁটা যে, এই ধরনের নোটিস আরও কারও কাছে পৌঁছতে পারে। পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অন্য রাজ্যে কাজ করতে গেলে এমন জটিলতার মুখোমুখি হতে হলে ভবিষ্যতে বাইরে কাজ খোঁজা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
বর্তমানে দুই পরিবার প্রশাসনিক সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁরা চাইছেন স্থানীয় প্রশাসন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরে তুলে ধরুক এবং সহানুভূতির সঙ্গে সাহায্য করুক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, দেশের নাগরিকত্ব নীতিমালায় আরও স্বচ্ছতা এবং তথ্য যাচাইয়ে সতর্কতা প্রয়োজন। না হলে সাধারণ মানুষকে অযথা ভোগান্তির শিকার হতে হতে পারে, যেমনটি ঘটেছে সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখের ক্ষেত্রে।