পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এক বাংলাদেশি তরুণীকে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে আনা হয়েছিল। পরে জোর করে যৌন পেশায় ঠেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

শেষ আপডেট: 26 December 2025 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে ঘটনাটি অবৈধভাবে সীমান্ত পেরোনোর একটি সাধারণ মামলা বলেই মনে হয়েছিল (Indo-Bangladesh border crime)। কিন্তু তদন্ত কিছুটা এগোতেই সামনে আসে এক ভয়াবহ মানবপাচার, জোর করে আটকে রাখা এবং যৌন শোষণের চাঞ্চল্যকর ছবি। ঘটনাটি নদিয়া জেলার (Nadia trafficking case)। এই মামলার সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে এক স্থানীয় হোটেল মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (Hotel owner arrested Nadia,)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় এক বাংলাদেশি তরুণীকে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে আনা হয়েছিল (Bangladesh woman trafficking India)। পরে তাঁকে জোর করে যৌন পেশায় ঠেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অবশেষে নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টার সময় তিনি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) হাতে ধরা পড়েন, আটক করা হয় তাঁকে। সেখান থেকেই গোটা ঘটনার পর্দাফাঁস।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ১৯ ডিসেম্বর BSF-এর ১৬১ নম্বর ব্যাটালিয়নের অধীন মধুপুর সীমান্ত চৌকি (BOP Madhupur)-র জওয়ানরা আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে ওই ২২ বছরের বাংলাদেশি তরুণীকে আটক করেন। তাঁর আটক হওয়ার পর ভীমপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ১৯ ডিসেম্বর ভীমপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশ কিছু ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
তদন্ত চলাকালীন পুলিশ আশপাশের সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখে এবং ওই তরুণীর গোপন জবানবন্দি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে রেকর্ড করে। পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, তাঁর বয়ানে উঠে এসেছে এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ।
ওই তরুণীর অভিযোগ, তাঁকে কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভারতে আনা হয়েছিল। পরে নদিয়ার বাহাদুরপুর এলাকার কালী মা হোটেলে তাঁকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই হোটেলের মালিক বচ্চন ঘোষ। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাঁকে জোর করে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করা হয়। পালিয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ না দিতে তাঁর মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকাও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কোনও রকমে ওই তরুণী হোটেল থেকে পালাতে সক্ষম হন। এরপর স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নিয়ে তিনি কাছাকাছি একটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময়েই BSF-এর নজরে পড়েন তিনি এবং আটক হন।
এই ঘটনার সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সাব-ইন্সপেক্টর তুষার কান্তি ঘোষের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল অভিযান চালায়। নদিয়ার ধুবুলিয়া থানার এলাকা থেকে অভিযুক্ত হোটেল মালিক বচ্চন ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়।
এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই মামলায় অভিযুক্ত বচ্চন ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামীকাল তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে আমরা তাঁর পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করব, যাতে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়।”
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই ঘটনার সঙ্গে আরও বড় কোনও মানবপাচার চক্র জড়িত থাকতে পারে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর সক্রিয় কোনও পাচারচক্রের সঙ্গে অভিযুক্তের যোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই আরও গ্রেফতার হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক।